প্রেম মানেনা জাতকুল কথাটি আবারও সত্য প্রমান করল মণীষা। টাঙ্গাইলের মণীষা গৌর (১৮)নামের এক কিশোরী প্রেমের টানে ৩শ` কিঃমিঃ পথ পারি দিয়ে উলিপুরের রাজমিস্ত্রী সঞ্জু মিয়ার সঙ্গে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর পৌরসভার নরিকেলবাড়ী (কাজির চক) গ্রামের তসলিম উদ্দিনের পুত্র সঞ্জু মিয়া (২২) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শাহ্ পাড়া গ্রামে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে যান। কাজের সুবাদে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শাহ পাড়ার ঝালমুড়ি ও ফুচকা বিক্রেতা মধু গৌর এর একমাত্র কন্যা মণীষা গৌর এর পরিচয হয়।

এক পর্যায়ে উভয়ে মধ্যে প্রেম নিবেদন শুরু হয়। দীর্ঘ দিন উভয়ের মধ্যে মন দেয়া নেয়া চলে। যখন গভীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল তখন তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

মণীষা জানান, গত ৫ জুলাই বুধবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল থেকে নৈশ চেয়ার কোচে উঠে বৃহস্পতিবার সকালে উলিপুর পৌঁছেন। রাতেই নোটারী পাবলিক, কুড়িগ্রামের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। তার নাম মণীষা গৌর পরিবর্তন করে মণীষা আক্তার রাখা হয়।

মণীষা আক্তারের বাবা মধু গৌর সহ ৭ জন একটি মাইক্রোবাস যোগে রাজমিস্ত্রী সঞ্জুর বাড়ীতে পৌঁছেন। মেয়ে মণীষার সাথে দেখাও করেন। দিনভর ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে কৌতুহলি মানুষের ভির জমতে থাকে।

অবশ্য উলিপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে গবা, পার্থসারতী সরকার সহ প্রায় ২ হাজার নারী ও পুরুষের উপস্থিতিতে মেয়ে মণীষাকে তার বাবা মধু গৌরের হাতে পরপর ৩ বার তুলে দেন। কিন্তু মণীষা তার বাবার সাথে যেতে অসম্মতি জানান। জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। অবশেষে মণীষা আক্তারে প্রেমের কাছে হার মেনে বাবা মধু গৌর নিজ বাড়ী টাঙ্গাইলে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে নব দম্পত্তি সুখে-শান্তিতে ঘর সংসার করছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য