নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কবলিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে আপাত শান্তি ফিরে এসেছে, কিন্তু দাঙ্গার উত্তাপ ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনকে সরগরম করে তুলেছে। এই দাঙ্গার জন্য ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপিকে দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।

পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক ওই দাঙ্গার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এই দাঙ্গা নিয়ে রাজ্যের গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে মমতার বাদানুবাদে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে ‘বোবা দর্শকের’ ভূমিকা পালন করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন কেশরিনাথ।

দাঙ্গার জন্য বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) ও তাদের অন্যান্য লেজুড় গোষ্ঠীকে দায়ী করেন মমতা। পাশাপাশি উস্কানিমূলক বিবৃতি দেয়ার জন্য বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অভিযুক্ত করেন তিনি।

মমতা দাবি করেন, বহিরাগতরা বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত উত্তর ২৪ পরগনায় ওই ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়। সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে কে আছে, কেন্দ্র না রাজ্য? আবারও আমি বলছি, এই রাজ্যের শান্তি বিনষ্ট করার জন্য বিজেপির চক্রান্ত এটি, বলেন তিনি।

নয়াদিল্লির বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্ট শাসন জারি করার তালে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কেন্দ্র আমাদের সহযোগিতা করছে না। বিজেপির সহিংস রাজনীতি প্রকাশ পেয়ে গেছে। এটি ফেডারেল পদ্ধতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার নজির, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে বলেন মমতা।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের মন্ত্রী পিযুষ গৈয়াল পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে অন্য আরেকটি সম্প্রদায়কে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে মমতা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হিন্দুদের ধরপাকড়ের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা দিপেন্দু বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুলিশকে তল্লাশি চালানোর জন্য তাদের বাড়িঘর দেখিয়ে দিয়েছেন। ঘটনাস্থল বসিরহাট পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য কলকাতায় উপস্থিত হলে বিজেপি দলীয় আইনপ্রণেতা মিনাক্ষি লেখি, ওম মাথুর ও সত্যপাল সিংকে কিছুক্ষণের জন্য আটক করে রাখে পুলিশ। বিজেপি নেতারা এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দাঙ্গাকবলিত এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনা যাওয়ার পথে কংগ্রেস ও বাম নেতাদেরও বাঁধা দেওয়া হয়েছে।

এরপর বিজেপি নেতারা কলকাতার রাজভবনে উপস্থিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্ট শাসন জারির জন্য গভর্নর কেশরিনাথের প্রতি আহ্বান জানান।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য শাখার প্রধান দিলিপ ঘোষ বলেন, “অবিলম্বে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

এরমধ্যে বসিরহাটের ঘটনা দাবি করে ভোজপুরি ছবির একটি স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছবিটি বিজেপি নেতারাসহ অনেকেই শেয়ার করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার বসিরহাট থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বাদুরিয়ায় প্রথম সহিংসতা শুরু হয়। এখানে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নবী মোহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার পর স্থানীয় মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পরে বাদুরিয়ায় শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উত্তর চব্বিশ পরগনার অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাদুরিয়া শহরটির পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু পুলিশ শুধু হিন্দুদেরই গ্রেপ্তার করছে অভিযোগ করে শুক্রবার উত্তেজিত একদল লোক বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তবে গত শনিবার কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য