আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের ৫ টি গ্রামে ধরলার ভয়াবহ ভাঙ্গনে সেখানকার অন্তত ২ শতাধিক ঘরবাড়ী ও ৫শ একর আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ী হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলো খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন কাটালেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন ঠোকাতে নেয়নি কোন ব্যবস্থা । ফলে ক্ষোভ আর বুক ভরা বেদনা নিয়ে বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা । এখনো ওই দুটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের দিন কাটছে ভাংগন আতংকে।

টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর শিবির কুটির- দক্ষিন শিবির কুটির এবং মোগলহাট ইউনিয়নের চারটি গ্রাম চওড়াটারী, মোগলহাট, মাছুয়াটারী ও কর্ণপুরে ধরলা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। গত দুই সপ্তাহে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে আড়াই শতাধি পরিবার। ঘরবাড়ী হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলো খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন কাটালেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন ঠোকাতে নেয়নি কোন ব্যবস্থা । ফলে ক্ষোভ আর বুক ভরা বেদনা নিয়ে বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা । প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা ।

অনেক আবাদি জমি, ফলের বাগানসহ অনেক গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা ভাঙ্গন হুমকীতে পড়েছে। ধরলার ভাঙ্গন থেকে বাঁচতে অনেকেই বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে । আবার অনেকেই নিরুপায় হয়ে আকড়ে থাকছেন ভাঙ্গন হুমকীতে থাকা বসতভিটায়।নদী ভাঙ্গনের শিকার নিঃস্ব পরিবারগুলো বসতভিাট, আবাদি জমি ও ফলের বাগান হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় ওয়াপদা বাঁধ ও পরিত্যক্ত রেল লাইনের উপর। খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন যাচ্ছে।নিঃস্ব এসব পরিবারের লোকজন নদীর কিনারায় বসে বসে চিন্তা করছেন আর নদী গর্ভে চলে যাওয়া বসতভিটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অশ্রু সিক্ত হচ্ছেন। কাজ-কর্মহীন হয়ে পড়া নদী ভাঙ্গনের শিকার লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন বাধ্য হয়েই।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে শুধুই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কার্যত কোন কাজ হচ্ছে না বলে এখানকার লোকজনের দাবী। ধরলা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বাঁধ দিয়ে অবশিষ্ঠ বসতাভটাসহ সম্পদাদি রক্ষার দাবী লোকজনের।ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সর্বস্ব হারানো অসহায় মানুষগুলো নিদারুন কষ্ঠে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে । এ ছাড়া ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করায় ভাঙ্গনের শব্দে নির্ঘুম রাত কাটছে এসব অসহায় মানুষের এদিকে ভাঙ্গন কবলিত মানুষগুলো নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকছেন তারা ।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আগাম বন্যার কারনে সদর উপজেলার কুলাঘাট, ও মোগলহাটের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ সার্বক্ষনিক নজরদারী রাখছি।নদী চরবেষ্টিত কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী জানান,চরের অভাবী মানুষগুলো ধরলার তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে । স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ক্ষোভও প্রকাশ  করেন তিনি ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য