কয়েকমাসের আলোচনার পর জাতিসংঘের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশ পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে রাজি হয়েছে। তবে এ চুক্তি বয়কট করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশ। এর পরিবর্তে দেশগুলো বহু দশকের পুরোনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে।

পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে ৭ দশকের প্রচেষ্টার পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মত পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করতে বৈশ্বিক ওই চুক্তি হয়। জাতিসংঘের ১৯২ টি সদস্যদেশের মধ্যকার দুই-তৃতীয়াংশ দেশের আলোচকরা ১০ পাতার চুক্তি চূড়ান্ত করেন।

চুক্তির পক্ষে পড়েছে ১২২ ভোট। একটি ভোট পড়েছে বিপক্ষে এবং সিঙ্গাপুর ভোটদানে বিরত ছিল। ভোটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশ্বের ৯ টি পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশের কোনওটিই ছিল না।

এখন ৫০ টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করার ৯০ দিন পর এটি কার্যকর হবে।

কিন্তু যৌথ এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রেক্রফ্ট এবং ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাঁসোয়া ডুলাট বলেছেন, তারা এ চুক্তি সই করা, অনুমোদন করা কিংবা এ চুক্তিভুক্ত হতে ইচ্ছুক নন। তারা এ চুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রণহীন বলে এর সমালোচনা করেন।

মার্কিন দূত হ্যালি বলেন, “আমাদেরকে আরও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।” প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করবে এমনকি কেউ ভাবতে পারবে?”

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি একটি দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে বিশ্বের যে কোনও জায়গায় আঘাত হানার সক্ষমতা দাবি করে হুমকি সৃষ্টি করেছে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি বয়কটকারী দেশগুলো এক বিবৃতিতে বলেছে, “যে সমস্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে থাকার প্রয়োজন পড়ে সে সব হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা একটি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলেও কাজে আসবে না। আর এতে করে কোনও দেশের নিরাপত্তা এমনকি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাও বাড়বে না।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য