মঙ্গোলিয়ার একসময়ের জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট তারকা ও ব্যবসায়ী খালৎমা বাটুলগা দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার দলীয় প্রার্থী মিয়েগোমবো এঙ্খবোল্ডকে বিরাট ব্যবধানে পরাজিত করেন বলে শনিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জুন প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার মতো ভোট কেউই জিততে পারেনি।

মঙ্গোলিয়ায় রেসলার হিসেবেই বেড়ে ওঠেন বাটুলগা, পরে জড়ান ব্যবসায়। তার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে হোটেল, চেঙ্গিস খানের থিমে গড়ে তোলা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি।

মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালনকারী সাখিয়া এলবেগদরেজরের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় ভোটে ভোট পড়ার হার ছিল ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ, এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ভোটার খালি ব্যালট জমা দিয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির বাটুলগা কিংবা সরকার সমর্থিত এঙ্খবোল্ড কেউই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। সব পক্ষের দিক থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযানও ‘কলঙ্কিত’ ছিল বলে অভিযোগ তাদের।

“মঙ্গোলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে নির্বাচন,” বলেন সান্ট মারাল ফাউন্ডেশন পোলিং গ্রুপের প্রধান লুভসানভান্দান সুমাতি।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাটুলগা পেয়েছেন মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ, এঙ্খবোল্ডের বাক্সে জমা পড়েছে ৪১ দশমিক ২ শতাংশ।

নির্বাচনী কর্মকর্তারা এখন প্রবাসীদের ভোটের অপেক্ষা করছেন, সেগুলো পেলেই পুরো গণনা শেষ হবে।

এবারের নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন মঙ্গোলিয়ান পিপলস পার্টির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রহস্যময় আচরণ করায় মঙ্গোলিয়ার অনেক ব্যবসায়ী নতুন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে উদ্বিগ্ন।

নির্বাচনী প্রচারণায় বাটুলগা মঙ্গোলিয়ার খনিগুলোকে আরও বেশি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা কথা বলেছেন। একসময় প্রতিবাদ জানালেও বাটুলগা পরে জানিয়েছেন, তিনি তাবান তলগোই কয়লা খনি থেকে চীন পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনায় সমর্থন দেবেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির এই সদস্য চীনের প্যান-এশিয়ান অবকাঠামো বেল্ট ও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন।

চার দিকে ভূমি দ্বারা বেষ্টিত মঙ্গোলিয়া সম্পদে ভরপুর; দেশটি মঙ্গল স¤্রাট চেঙ্গিস খানের জন্মস্থান হিসেবেও সুপরিচিত।

দেশটিতে সংসদীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাতে সরকারের নেতৃত্ব থাকলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে যে কোনো আইনে ভেটো দিতে পারেন এবং বিচারক নিয়োগ করতে পারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য