তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী সেদেশে আশ্রয় নেয়া সিরিয় শরণার্থীদেরকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেন আলী ইলদিরিম সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, যে কেউ তুরস্ক সমাজের রেড লাইন অতিক্রম করবে তাকে সেদেশ থেকে বের করে দেয়া হবে।

সিরিয়া যুদ্ধের কারণে যে ৫০ লাখ মানুষ শরণার্থী জীবনযাপন করছে তার মধ্যে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে ২৭ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থী। তুরস্কে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা বাসস্থান, শিক্ষা, কাজ, খাদ্য ও চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে। তুরস্কে যেসব শরণার্থী অবস্থান করছে তার মধ্যে মাত্র তিন লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে পেরেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক সরকার দু’টি কারণে সিরিয়ার শরণার্থীদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রথমত, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তুরস্কের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক দশমিক আট শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া, এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় সিরিয়ার শরণার্থীরা অবস্থান করছে সেখানকার মুদ্রাস্ফীতি অন্য এলাকার তুলনায় বেশি। তাই শরণার্থীদের উপস্থিতি তুরস্কের জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া, শরণার্থী এলাকায় বেকারত্বও অনেক বেড়েছে এবং গত বছর পর্যটন শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় তুরস্ক সরকার কেন শরণার্থীদের পেছনে অর্থ খরচ করবে তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।

তুরস্ক সরকারের উদ্বেগের দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, শরণার্থী এলাকাগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে। শরণার্থীরা রাস্তায় রাস্তায় সহিংসতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে এবং এমনকি তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সরকার শরণার্থীদের জন্য কিছু নাগরিক সুবিধা দেয়ার কথা ঘোষণা করার পর জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। গত বছর তুরস্কের বিভিন্ন শহরে দায়েশ সন্ত্রাসীরা ধারাবাহিক বোমার বিস্ফোরণে ঘটিয়েছে। এ ছাড়া, তুরস্কে প্রচুর সংখ্যক শরণার্থী অবস্থান করায় এবং তাদের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ায় নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি তুরস্কের নাগরিক ও শরণার্থীদের মধ্যে সংঘাতও বেধে যতে পারে। ইজমির্স ইয়াসার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইযলিন ইলদিয বলেছেন, তুরস্কের জনগণ এজন্য চিন্তিত যে, সিরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত খোলা থাকায় সন্ত্রাসীরা এর অপব্যবহার করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য তুরস্কের বিরাট ভূমিকা রয়েছে এবং দেশটির নেতারা এখন প্রতিবেশী সিরিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির খারাপ পরিণতির বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার সরকার খারাপ পরিণতির পরিমাণ সর্বনিম্নে কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে তুরস্কের নীতিতে পরিবর্তন আনা খুবই জরুরি। কারণ প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিরাপত্তা বজায় থাকলে তুরস্কের নাগরিকদের যেমন নিরাপত্তা থাকবে তেমনি দেশটি অর্থনৈতিক সংকট থেকেও মুক্তি পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য