কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চিলমারী নদী বন্দর নিয়ে জেলাপরিষদ-বিআইডব্লিউটিএ’র রশি টানাটানিতে আদালে তর স্টে আদেশ না মেনে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বন্দরে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাটের পন্টুন। এতে প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এবং নৌপরিবহন মন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত নদী বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে জনগনের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে,৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারী সফর কালে চিলমারী নদী বন্দরকে পুনঃচালুর ঘোষনা দেন এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি ২৩ সেপ্টেম্বর/১৬ চিলমারীর রমনা ঘাটে ফলক উম্মোচনের মাধ্যমে চিলমারী নদী বন্দরের শুভ উদ্বোধন করেন। তার পরই শুরু হয় জরিপ, খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম।

শুধু তাই নয় বিআইডব্লিউটিএ এর পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘাটটি ইজারাও দেয়া হয়। এবং নদী বন্দর এর সীমানায় রমনা শ্যালোঘাট/লঞ্চঘাট, জোড়গাছ ঘাটে যাত্রী ও মালামাল উঠানামার শুল্ক আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং এবং রমনা/শ্যালোঘাট হতে রাজিবপুর এবং রমনা/শ্যালোঘাট হতে রৌমারী ফেরী/খেয়াঘাটের শুল্ক আদায় কেন্দ্র নামক ঘাট/পয়েন্ট সীমানা ভুক্ত করে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ইজারা প্রদান করা হয়। অপরদিকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও ঘাটটি ইজারা দেয়া হয়।শুরু হয় উক্ত এলাকা নিয়ে জেলা পরিষদ ও বিআউডব্লিউটিএ’র রশি টানাটানি।

এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র নিযুক্ত ইজারাদার শেখ সরদার আসাদুজ্জামান কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের ইজারা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন নং-৮৫৮৩/২০১৭ দায়ের করেন। তৎপ্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত ৮জুন/২০১৭ তারিখ রুল প্রদানসহ জেলা পরিষদের পক্ষ হতে ইজারা প্রদত্ত রমনা শ্যালোঘাট ও জোড়গাজ ঘাটের ইজারা কার্যক্রমের উপর স্টে আদেশ প্রদান করেন বলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর (নথি নং-১৮.০২.২৬০০.০৬৩.০৪.০০০.২০১৪(চিলমারী নদী- বন্দর)/১০৯৯) তারখি ২১জুন/১৭ এর একটি চিঠির পেক্ষিতে জানা যায়। বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ এর উপস্থিতিতে ওই স্টে আদেশকে অম্যান্য করে অজ্ঞাত কারনে চিলমারী নদী বন্দরের উদ্বোধনকৃত এলাকায় অবস্থিত বাংরাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চিলমারী লঞ্চ ঘাটের পল্টুনটি ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেন।

পন্টুন সরিয়ের দেয়ায় চিলমারী নদী বন্দরকে স্বপ্ন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন তিনি বলেছিলেন চিলমারী নদী বন্দর করা হবে এরই পেক্ষিতে কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল আমরাও আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলাম কিন্তু হঠাত পন্টুন সরিয়ে নেয়া ও জেলা পরিষদ এবং বিআইডব্লিউটিএ’র রশি টানাটানির ফলে আমরা হতাশ। এব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা মুরাদ হাসান বেগ বলেন, একটি আদেশ ও উপরের নির্দেশে চিলমারী রমনা ঘাট এলাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র লঞ্চ ঘাটের পল্টুনটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি আদালতের কোন স্টে আদেশ পাইনি। আদালতের স্টে আদেশকে সম্মান করতেই হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য