ব্রিটেনের মসজিদে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহত হওয়া মানুষদের নিয়ে শোক মিছিল করেছে সেখানকার বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কর্মীরা। বুধবারের ওই শোক মিছিলে সাম্প্রতিক ফিনসবাড়ি মসজিদের হামলায় হতাহতদের স্মরণ করা হয়। একইসঙ্গে বিভিন্নভাবে যারা সম্প্রতি মুসলিমবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন, তাদেরও স্মরণ করা হয়। ওই শোক মিছিল মুসলিমবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আয়োজিত হলেও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় সেই মিছিল থেকে।

১৮ জুন স্থানীয় সময় রবিবার দিনগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যের ফিনসবারি পার্কে মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হয়ে আসা মুসলিমটের টার্গেট করা হয়। সে সময় একটি ভ্যান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ মুসল্লিদের ধাক্কা দেয়। ওই মুসল্লিদের অনেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হচ্ছিলেন। ওই ঘটনায় ১ জন নিহত হন। হামলাকারী ৪৭ বছর বয়সী অসবর্ন হামলাকালে সব মুসলিমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল থেরেসা মে’র সরকারও এই ঘটনাকে মুসলিমবিদ্বেষ বলে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়।

সেই হামলার নিন্দা জানানো হয় বুধবারের শোক মিছিল থেকে। ধ্বনিত হয় বর্ণবাদবিরোধিতার তীব্র স্বর। অংশগ্রহণকারীরা ‘মুসলিমবিদ্বেষ রুখে দাঁড়াও’, ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হও’, ‘শরণার্থীদের স্বাগত জানাই’ কিংবা ‘বর্ণবাদকে না বলো’সহ সম্প্রীতি ও ঐক্যের পক্ষের বিভিন্ন শ্লোগান, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে ওই মিছিলে অংশ নেন।
মুসলিমবিদ্বেষের শিকার এক ব্রিটিশ মুসলিম মুখতার এসেছিলেন সেই শোক মিছিলে। তার মুখে এসিড ছোঁড়া হয়েছিল। বিদ্বেষী সেই হামলার কথা বলতে গিয়ে মুখতার চ্যানেল ফোরকে তিনি বলেন, সেদিন তার এক চাচাতো বোনও ওই আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। এ ঘটনার সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ।

জুনের তৃতীয় সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যানচেস্টার ও লন্ডন ব্রিজে হামলার পর থেকে যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের হার বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা টেল মামা’র বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, ম্যানচেস্টারের কনসার্টে হামলার পরের সপ্তাহে শহরটিতে ইসলামবিদ্বেষী হামলা পাঁচগুণ বেড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে মেয়র সাদিক খানের কার্যালয় থেকে মুসলিমবিদ্বেষী হামলা ২০ভাগ বাড়ানোর কথা বলা হয় সে সময়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য