২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০০ ইরাকি বেসামরিক নাগরিককে মসুলের পশ্চিমাঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরাকি সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে।

গত ২৯ জুন, ইরাকের মসুলে তাৎপর্যপূর্ণ জয় দাবি করেছে ইরাকি বাহিনী। তিন বছর আগে শহরটির ঐতিহাসিক আল নূরি মসজিদ থেকে কথিত খিলাফতের সূচনা করেছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। আট মাস লড়াই শেষে সেই মসজিদে পুনর্দখল প্রতিষ্ঠা করে ইরাকি সেনাবাহিনী তখন জানায়, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খিলাফতের পতন হয়েছে। তবে এখনও সীমিত অঞ্চলে আইএস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে,অচিরেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে সেনাসূত্র। সেই যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।

আনাদুলু পোস্টকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, আইএস এবং ইরাকি বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে ওই বেসামরিকদের অনেকে আহত হয়েছেন। এক সময়কার ১৫ লাখ অধিবাসীর বহুজাতির মানুষের আবাসস্থল মসুল আইএস মুক্ত করতে লড়াই শুরু হয় গতবছরের অক্টোবরে। ২৯ জুন ইরাকি বাহিনী নুরি মসজিদের একেবারে কাছে পৌঁছে যায়। তারা ৮৫০ বছরের পুরোনো মসজিদটি দখলে নিয়ে এক বড় ধরনের প্রতীকী জয় পায়।

২০১৪ সালের ২৯ জুন সিরিয়ার আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা আর ইরাকের মধ্যাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে স্বঘোষিত খিলাফতের ঘোষণা দেন আবু বকর আল-বাগদাদী। খিলাফতের রাজধানী বানানো হয় সিরিয়ার রাকা শহরকে । এর মধ্য দিয়ে গঠিত হয় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত বা আইএসআইএল, যা সংক্ষেপে আইএস নামে পরিচিতি পায়। মার্কিনসমর্থিত ইরাকি বাহিনী মসুল পুনর্দখলে এগিয়ে আসার এক পর্যায়ে আইএস ১২ শতকে নির্মিত আল-নুরি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে।

পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে আইএস সরাসরি সাধারণ মানুষকে টার্গেট করেছে। মসুল থেকে পালানোর সময় নিহত হয়েছেন বহু বেসামরিক নাগরিকরা। এছাড়া মার্কিন বিমান হামলায়ও প্রাণ হারাতে হয়েছে বেসামরিকদের। জাতিসংঘের হিসাবে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে সে সাস পর্যন্ত মসুলে কমপক্ষে ৮ হাজার বেসামরিক হতাহতের শিকার হয়েছে। ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ৬লাখ মানুষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য