বেলাল উদ্দিন, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মসজিদটিতে দেখা দিয়েছে ফাটল, ছাদ চুঁয়ে পরছে পনি, খুলে খুলে পরছে প্লাষ্টারসহ টেরাকোটা ভাস্কার্য শিল্প। মসজিদটি ধ্বংস হলে মুছে যাবে প্রায় ৩শ বছরের মুসলিম ঐতিহ্য ইতিহাস। প্রতœতাত্বিক বিভাগের অবহেলা আর উদাসিনতায় অন্ধকারের গহিন গহ্বরে হারিয়ে যাবে প্রাচীন মুসলিম সভ্যতা এক ইতিহাস। আইনী জটিলতার কারনে স্থানীয় ভাবে মসজিদটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ ইতোমধ্যে কোটি টাকা ব্যায় করে সাজানো হয়েছে মসজিদের সিমানা প্রচীর সহ চারিধার।

নয়াবাদ মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, চারিদিকে সিমানা প্রাচীর তৈরী করা হয়েছে, আরো তৈরী করা হয়েছে সুদৃশ্য উদ্যান, মাদ্রাসা এবং পর্যটকদের বসার স্থান। পর্যটকদের জন্য মনোরম বসার জায়গা, ওযু খানা, গোসল খানা, ল্যাট্রিন, বাহারী ছাউনী, ফুল ফলে শোভয়ীত করা হয়েছে চারীধার। ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদকে নিয়ে চারিধারে সব দারুন আয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় মসজিদের মুল অবকাঠামোর বিন্দু মাত্র সংস্কার ও মেরামত করেনি প্রতœতাত্বিক বিভাগ তথা বাংলাদেশ সরকারের ঐতিহাসিক সংরক্ষন বিভাগ।

ইতোমধ্যে মসজিদের ছাদ সহ দেওয়াল ও গম্বুজে দেখা দিয়েছে ফাটল। টেরাকোটা ভাস্কর্যগুলি খুলে খুলে পড়ছে। ছাদ চুয়ে পড়ছে পানি। ভিতরের পশ্চিম দেওয়াল জুরে সবুজ শেওলার দাগে ভর্তি। বাইরের দেওয়ালে প্লাষ্টারগুলিতে লোনাধরে খুলে খুলে পড়ছে চুন সুড়কির প্রলেপগুলি। মসজিদের ৩টি গম্বুজে ও দেওয়ালের প্রায় স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে ঝড়ের দিনে বাতাসের তড়ে মসজিদের মিনারগুলি নড়াচড়া করে।

যে কোন সময় মসজিদটি ভেঙ্গে পড়তে পারে এই ভয়ে বর্ষারদিন মুসল্লিরা ঐতিহাসিক মসজিদের ভিতরে নামাজ আদায় না করে বাহিরের বারান্দায় নামাজ আদয় করেন। মন্ত্রণালয়ের আইনে উল্লেখ আছে যে, ঐতিহাসিক নির্দশনের মূল অবকাঠামো স্থানীয় ভাবে কোন মতই মেরামত করা যাবে না।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ১৮ কি:মি: উত্তরে ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির থেকে এক কি:মি: দক্ষিনে ঢ্যাপা নদীর কোল ঘেষে নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ। ইসলামী ট্যারাকোটা ভাস্কর সমৃদ্ধ এই মসজিদটি কবে কার আমলে স্থাপিত হয়ে তা বিশ্লেষন করা জটিল ব্যাপার। মসিজিদের শিলালীপি ফারসী ভাষায় অস্পষ্ট থাকায় সঠিক অনুবাদ সন তারিখ উদ্ধার করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। নির্মাণ কারী কাড়িগরদের বংশধর বর্তমানে মসজিদের রক্ষানা বেক্ষন কাজে নিয়জিত।

বর্তমানে কারিগড়দের বংশধর মসজিদের মোতয়াল্লী সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান এর মতে-মুকল স¤্রাট দ্বিতীয় শাহ্ আলম এর সময় বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যাক্তিত্ব শায়খ মুজিব আলার তত্ত্ববধায়নে কান্তজিউ মন্দির নির্মানের কারিগড়রা তাদের শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের নির্মাতা মিস্ত্রিদের মধ্যে নিয়াজ নেওয়াজ ডাক নাম কালু মিস্ত্রির প্রসিদ্ধ।

এদের বংশধর এই পর্যন্ত মসজিদের দেখভাল করে আসছেন। কান্তনগর মন্দিরের নির্মাণকারী মুসলমান মিস্ত্রিরা নামাজ আদায়ের জন্য মন্দির এক কিলোমিটার দুরে নয়াবাদ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মানের অনুমোতি, জমি ও খরচা মহারাজার নিকট থেকে প্রাপ্ত হন।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য