নীলফামারীর ডিমলায় ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ২ জন নিহতের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে ডিমলা থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৪৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত রোববার রাস্তায় ট্রলি দিয়ে বালু পরিবহনকে কেন্দ্র করে ঝুনাগাছ ইউনিয়নের ইউপি সদস্যের সাথে ট্রলির মালিকের সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলে ১৩ জন আহত হয়েছে। আহতের মধ্যে জাহেদ আলী নামে একজন রংপুর হাসপাতালে ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৪ টায় মৃত্যরবন করেন।

জানা যায়, রোববার সকাল ১১ টার দিকে ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি নামক স্থানে আব্দুর রশিদ রাস্তা দিয়ে ট্রলি দিয়ে বালু পরিরহন করার সময় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বাধা প্রদান করেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

আব্দুর রশিদের পক্ষে জাহেদ আলী (৫০), মোজাফ্ফর হোসেন (৪০), আমিনা বেগম (৪৫), আব্দুর রশিদ (৩০), মশিয়ার রহমান (৪৫), মনছুর আলী (৩০), অপর দিকে ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান (৫০), পুত্র হাসানুর রহমান (২৮) ও হাবিবুর রহমান (২৫), জামাতা আসাদুজ্জামান (৩০), ভাই নুরল হক (৬৫), নুর হোসেন (৩৫) ও ভাতিজা শাহিন আলম (১৯) আহত হয়। আহতদের ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে জাহেদ আলী, মোজাফ্ফর হোসেন, নুরল হক ও আমেনা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর হাসাপাতালে হস্তান্তর করা হয়। রংপুর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নেয়ার সময় জাহেদ আলী সেখানে মারা যায়।

অপরদিকে সোমবার সকালে জোরপুর্বক জমি দখল করে আমন ধানের চারা বুনতে গিয়ে সোমবার সকালে কায়িম শ্রমিক ফজলে রহমান (৫৫) নিহত হয়েছে। তিনি নাউতরা ইউনিয়নের নাউতরা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র। ফজলে রহমান কায়িম শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের চারা লাগানোর কাজ করত। আহত অবস্থায় তাকে ডিমলা হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

পুলিশ জানায় গত সোমবার সকালে নাউতরা ইউনিয়নের নাউতরা বাজার সংলগ্ন বোরহান উদ্দিনের জমি দখল করে আনিছুর রহমান হাল চাষ করতে ছিল। উক্ত জমিতে আমন ধানের চারা লাগানের জন্য ফজলে রহমানকে নিয়ে যায়। ওই জমিতে আানিছুর রহমানের সাথে বোরহান উদ্দিনের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পরিবারের ৯ জন আহত হয়েছে। আহতের মধ্যে কায়িম শ্রমিক ফজলে রহমানকে হাসপাতাল নেয়ার পথে সে মারা যায়।

এ ঘটনায় আনিছুর রহমান (৩৮), আনিছুর রহমানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৫), জুয়েল রানা (৪৫), নযন ইসলাম (২২) ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে বোরহান উদ্দিনের পরিবারের ৫জন সদস্য বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি হয়েছে মর্মে বোরহান উদ্দিন বলেন। নীলফামারীর ডিমলায় রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর করে বালু পরিবহন করার সময় জাহেদ আলী (৫০) নিহত হওয়ার ঘটনার সোমবার থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী মিনা বেগম।

মিনা বেগম বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামী করে মামলা-২ দায়ের করেন। মামলার দায়ের পর ইউপি সদস্য আমিনুর রহমানসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মনিরুজ্জামান (২২), শাহিন আলম (২০), আশাদুজ্জামান (৩২) গ্রেফতার করে কারাগাড়ে পাঠিয়েছে। অপর দিকে নাউতারা ইউনিয়নের নিহত শ্রমিক ফজলে রহমানের পুত্র মমিনুর রহমান বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা নং-৪ দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলায় মোক্তার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।

ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পৃথক দুটি ঘটনায় সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ দুটি মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলার কারাগাড়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য