কুড়িগ্রামের প্রধান-প্রধান নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে দ্বীপচর ও নদ-নদী তীরবর্তি এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে সদর উপজেলার হলোখানা, ভোগডাঙা, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, মোঘলবাসা, নাগেশ^রীর নুনখাওয়া, বামনডাঙ্গা, কালিগঞ্জ, উলিপুরের হাতিয়া, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, চিলমারীর অস্টমীরচর, নয়ারহাটসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বীজতলা ও পাটক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪টি নদ-নদীর পানির লেভেল পরিমাপ করা হয় ধরলায় ২৫ দশমিক ৪৭ সে.মি., তিস্তায় ২৮ দশমিক ০৩ সে.মি., ব্রহ্মপূত্র নুনখাওয়ায় ২৫ দশমিক ৩৩ সে.মি., এবং চিলমারী পয়েন্টে ২৩ দশমিক ১০ সে.মি.। বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয় ধরলায় ৮৮ মি.মি, তিস্তায় ২৫ মি.মি., চিলমারীতে ৯০ মি.মি.।

এরফলে গত ২৪ ঘন্টায় ধরলা নদীতে ১২ সে.মি., ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে দশমিক ১৫ সে.মি. এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে দশমিক ১৪ সে.মি. পানি বেড়েছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি দশমিক ৮ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে নদ-নদীর ভাঙন। গত ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন এলাকায় আরো ১৫টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খাঁ এলাকায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। রৌমারীর যাদুরচর, উলিপুরের হাতিয়া ও বেগমগঞ্জ রাজীবপুর সদর, মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটিসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদী জমি। হুমকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলার জন্য সার্বিক প্রস্ততি গ্রহন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে ত্রাণ অধিদপ্তরের কাছে ৫০০ মে. টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।

রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজীবপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে ওই সহায়তা প্রদান করা হয়।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৯ জন ব্যবসায়ির মাঝে ঘড় নির্মানে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ৩৯ কেজি করে গম দেওয়া হয় খাদ্য সহায়তা হিসেবে। বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম, উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ফাউজুল কবীর, ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ছালাম তালুকদার প্রমুখ।

ভাঙন রোধে রাজিবপুর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ফাউজুল কবীর জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের তীর সংরক্ষণ কাজের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য