কুয়ালালামপুরের পথে রওনা হওয়া একটি উড়োজাহাজের যাত্রীরা তীব্র ঝাঁকুনির শিকার হওয়ার পর সেটি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে মালয়েশীয় এয়ারলাইন এয়ারএশিয়ার ওই এক্স ফ্লাইটটি ৩৫৯ জন যাত্রী নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট থেকে রওনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। রওনা হওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর উড়োজাহাজটি নিরাপদে ব্রিসবেনে অবতরণ করে। পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে বিমানটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির ফিরে আসার আগে তারা জোরালো শব্দ শুনতে পেয়েছেন এবং একটি ইঞ্জিন থেকে আগুনের ফুলকি উঠতে দেখেছেন।

উড়োজাহাজটি ফিরে আসার পর রানওয়ে থেকে দুটি পাখির দেহাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। টিম জোগা নামে এক যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি ‘চার থেকে পাঁচবার প্রচ- শব্দ’ শোনার পর উড়োজাহাজের বাইরের দিকে ‘কমলা রংয়ের আলো’ দেখেছেন।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে তিনি বলেছেন, “ঝাঁকুনি শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েক বার প্রচ- শব্দ হয় এবং অনেক আলোর ঝলকানি দেখা যায়।”

উড্ডয়নের কিছু সময় পরই এ ঘটনা ঘটে বলে জানান এরিক লিম নামের আরেক যাত্রী।
ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন, “একের পর এক স্ফুলিঙ্গের সঙ্গে বুম বুম বুম শব্দ শোনা যাচ্ছিল আর কিছু মানুষ ‘ও মাই গড, ও মাই গড’ বলে চিৎকার করছিল।”

এয়ারএশিয়ার এক্সের প্রধান নির্বাহী বেনিয়ামিন ইসমাইল বলেছেন, ঘটনার সময় যাত্রীদের আশ্বস্ত করতে পাইলট ও ক্রুরা ‘তড়িৎ পদক্ষেপ’ নেন।

গত সপ্তাহেও একই এয়ারলাইন্সের অপর একটি উড়োজাহাজ ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে ‘ওয়াশিং মেশিনের মতো ঝাঁকাতে থাকার পর’ পার্থে ফিরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছিল।

এই মাসের শুরুতে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও ইঞ্জিনের খোলে বড় গর্ত নিয়ে সিডনিতে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছিল।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এয়ারএশিয়ার একটি উড়োজাহাজ জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ১৬২ যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য