ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সকালে তিনি ইসরায়েলের পথে দেশত্যাগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোদির এই সফরকে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির ‘বদল’ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

গত ২৫ বছর ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও দেশের বিরাট মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় নিয়ে ভারত সবসময় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অন্যান্য সফরকারীরা যেমন ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের রামাল্লায়ও যান এবং সেখানকার নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন, মোদির এবারের সফরে সেই রীতিও মানা হচ্ছে না।

এসব কারণেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকে ভারতের আগের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ধারাবাহিকতা নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আগেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন মোদি; বলেছিলেন, ভারত ও ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সম্পর্ক ‘গভীর ও শতাব্দী প্রাচীন’।

অবশ্য বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশ দুটি সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, প্রতিরক্ষা, কৃষি, পানি ও জ¦ালানি খাতে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। ইসরায়েলও মোদির এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসন্ন বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

নেতানিয়াহু বলেছেন, ভারতের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক ‘ধারাবাহিক উন্নতির পথে’ই আছে। মোদি তার এবারের সফরে ইসরায়েলি বালক মোশে হজবার্গের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় শহরটির এক ইহুদি সেন্টারে বন্দুকধারীদের গুলিতে হজবার্গের বাবা-মাও নিহত হয়েছিলেন। চারদিন ধরে চলা ওই সন্ত্রাসী হামলায় ১৬৪ জন নিহত ও অন্তত ৩০৮ জন আহত হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য