মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকে॥ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডাক্তারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাটাই বন্ধের প্রতিবাদে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন পালন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

সোমবার (৩ জুলাই) দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন পালন করে। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপির অনুলিপি জাতীয় সংসদের হুইপ, স্বাস্থ্য সচিব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব, দিনাজপুর সিভিল সার্জনসহ সংশিষ্ট দপ্তরে প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, উত্তরবঙ্গের একমাত্র হৃদরোগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল জেলাবাসিকে সেবা প্রদান করে আসছে যা আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। কিন্তু দুঃখজনক যে, যে সকল মেডিকেল অফিসার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি সকলের আস্থা ও নির্ভরতা প্রতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তাদের সাথে কর্তৃপক্ষ অসৌজন্যমূলক আচরন করছেন।

পরিচালনা পর্ষদের অসৌসজন্যমূলক আচরন ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ ও আশু সমস্যা নিরসনের জন্য আমাদের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করা সত্বেও আমাদের কয়েকজন মেডিকেল অফিসার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২০১৫ সালের শেষ ৪ মাস হতে ৬ মাস পর্যন্ত বকেয়া বেতন এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি।

২০১৬ সালের জানুয়ারী হতে জুন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। উপরন্তু চলতি ২০১৭ সালের এখন পর্যন্ত অফিস স্টাফসহ নি¤œ শ্রেণির এপ্রিল-জুন মাসের বেতনসহ মোট ৯ মাসের বেতন ও দুইটি উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়নি। ফলে কনসালটেন্টসহ মেডিকেল অফিসার ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীযনযাপন করছেন। অনেক স্টাফ অন্যত্র চলে যাওয়ার পরেও তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। তারা বকেয়া বেতন চাইতে গেলে তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন ও হুমকি প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করা হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি আরো বলা হয়, যে গত ২০১০ সাল হতে ডাক্তার ও নার্সদের কোন রকম উৎসব ভাতা প্রদান করা না হলেও বাৎসরিক অডিটে তা নিয়মিতভাবে প্রদান করা হয় মর্মে দেখানো হয়। এছাড়া মাতৃত্বকালিন ছুটি ৬ মাসের পরিবর্তে ২ মাস প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৩ জুন হঠাৎ করে সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের “চারকী হতে অব্যাহতি” নোটিশ প্রদান করা হলেও নোটিশে বকেয়া বেতনের ব্যাপারে পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ইতিপূর্বে হাসপাতালের ৭টি ওয়ার্ড থাকলেও পরিচালনা পর্ষদ ইচ্ছামত জনবল ছাটাই করে বর্তমানে জনবলের অভাব দেখিয়ে ৩টি ওয়ার্ড বন্ধ রেখেছে। ফলে রোগিরা তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্মারকলিপিতে রোগিদের সেবাদানের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন, চিকিৎসা সেবা বিষয়ে অভিজ্ঞ নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও তাদের নিয়মিত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং ইতিপূর্বে ছাটাইকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূনর্বহালের দাবী জানিয়েছেন।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের সময় জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মুক্তা লিলিয়ান গমেজ, ডা. মোছাঃ আতিকা ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. আখলাক হোসেন, ডা. নিলা রায়, হাসপাতালের কর্মকর্তা এডওয়ার্ড বিশ্বাস, মো. মিন্নাতুল্লাহসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য