কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর হাটের পূর্ব প্রান্তে দুধকুমার নদের কোল ঘেষে স্থাপিত ২ নং যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় থাকার পরও ভাঙন প্রতিরোধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টির মূল ভবন নদী ভাঙনে ধ্বসে পড়ার পর বর্তমানে পুরো বিদ্যালয় চত্বর যে কোন মুহুর্তে নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী। বিদ্যালয়টিতে আর কোনও দালান না থাকায় গরমে টিন শেড ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচশত শিক্ষার্থী।

দুধকুমার নদের ভাঙনে ২ নং চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির মূল ভবন বিলীন হওয়ার পর এখন পুরো বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয় চত্বরটি ভাঙনের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও এখনও বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে নিজেদের বিদ্যালয় ভবন সহ পুরো বিদ্যালয়টির এমন বিলীন হওয়ার দৃশ্যে হতাশা আর আক্ষেপ প্রকাশ করছে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ধ্বসে পড়া ভবনটিতে পাঠদান পরিত্যাক্ত ঘোষণা করলেও বিদ্যালয় চত্বরের কাছে দুধকুমার নদের ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনও সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন অভিভাবক ও বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা। তাদের দাবি অনতিবিলম্বে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

২ নং চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবায়দুর, মমিনুল, আলপনা, ফরিদা, এবং তৃতীয় শ্রেণির মরিয়ম, শারমিন, শাহজাদি, মিজানুর, হাফিজুর বিদ্যালয় ভবন নদী ভাঙনে ধ্বসে পড়ায় আক্ষেপ করে বলেন, কয়েক বছর থেকে নদের কিনারে দাড়িয়ে পতনের অপেক্ষায় থাকলেও বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষায় কোনও উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এখন আমাদের বিদ্যালয় নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে প্রচন্ড গরম সহ্য করে টিনের ঘরে গরমে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আমরা ভীষন কষ্ট পাচ্ছি। আমরা বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

মানিক মন্ডল নামে একজন এলাকাবাসী ও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান,` আমার দুই ছেলে ওই স্কুলে পড়ে। স্কুল চলা কালীন সময়ে এবং ছুটির পরও ছেলে-মেয়েরা ভাঙা ভবনের ছাদে আর নদীর ধারে খেলতে যায়। আমি সবসময় আতঙ্কে থাকি কখন কোন দূর্ঘটনা ঘটে।

ওই অভিভাবক আরও বলেন,` এখন বর্ষা কাল শুরু হইছে। নদীত পানিও বাড়ছ্,ে ভাঙনও চলছে। কোনও অঘটন ঘটার আগত সরকার স্কুল ঘর অন্য জায়গায় নেউক।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, কয়েক বছর ধরে ভাঙনের হুমকিতে থাকা বিদ্যালয়ের মূল ভবনটির ভিত্তি স্তরের মাটি নদীতে ভেঙে পড়ায় গত মাসে ভবনটি নদীতে পুরোপুরি ধ্বসে পড়ে। ফলে আমরা মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভবনটিতে পাঠদান বন্ধ করে দিলেও ধ্বসে পড়া ভবনটির পরিত্যাক্ত অংশের ছাদে যে কোনও সময় বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা উঠে পড়ে। আবার বিদ্যালয়ের বারান্দার একেবারে নিকটে নদী এসে পড়ায় এবং ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনও সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন সময় আমরা সবসময় বরান্দায় দাড়িয়ে পাহারা দেই যাতে শিক্ষার্থীরা ওই ধ্বসে পড়া ভবনটিতে এবং নদীর কিনারে যেতে না পারে। কিন্তু বিদ্যালয়টি গ্রামে হওয়ায় স্কুল ছুটির পরও অনেক শিশু বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে খেলতে আসে। সে সময়ও যেকোনও ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমরা চাই দ্রুত সময়ে বিদ্যালয়টি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হোক।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিন আল পারভেজ জানান, আমরা বিদ্যালয়টির স্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নতুন একটি জায়গা নির্ধারণ করতে বলেছি। জায়গা নির্ধারণ হলেই বিদ্যালয়টি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য