আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকেঃ ‘পরিশ্রম সু-ভাগ্যের প্রতীক’ কথাটির অভিনব প্রমান করেছেন, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশহর গ্রামের মানিক চন্দ্র দাস (৪২)। দারিদ্র পরিবার থেকে তিল তিল করে ৪২ বছর বয়সের পা দিয়েছে। তার বাবা নরেন দাস ছিলেন মৎস জীবি। তাই ছোট থেকে মানিক চন্দ্র বাবার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করতেন। অভাবের তারনায় পড়াশোনা করতে পারেনি। কোন রকম নিজের নাম খানা লেখতে পারে। মানিক চন্দ্র মৎস শিকার করে হাট বাজারে বিক্রয় করতেন।যা আয় আসতো কোন মতে সংসার চালার মতো। তবুও মানিক চন্দ্র ধৈর্য্য হারা হননি।

নিজের উদ্যোগে অত্যান্ত আধুনিক পদ্ধতিতে ২০১৫ সালে বাড়ির আঙিনায় মানিক হ্যাচারি যাত্রা শুরু করেন। ধিরে ধিরে তার মৎস হ্যাচারি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।সরেজমিন গিয়ে দেখাযায়,মানিক চন্দ্র দাস তার বাড়ির আঙিনায় মাটির তৈরি হাউজের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছের রেণু থেকে পোনা উৎপন্ন করছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশহর গ্রামে হচ্ছে এই পােনা উৎপাদন। ওই গ্রামে ২০১৫ সালে বাড়ির আঙিনার ওপর গড়ে তোলা হয় মানিক হ্যাচারি নামে মৎস্য খামার।

আধুনিক পদ্ধতিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ খামারে চলছে রেণু থেকে মাছের পোনা উৎপাদন কার্যক্রম। খামারে মাছের ডিম থেকে উৎপাদন করা হয় পোনা। সাফল্যের সঙ্গে প্রায় আড়াই বছর ধরে এ কাজটি করে আসছেন মানিক চন্দ্র দাস।এ প্রতিবেদকের সঙ্গে মানিক চন্দ্রের কথা হলে তিনি জানান,আমার বেশি জমি জামা নেই যা অন্যদের মতো বড় হ্যাচারি করবো। তবে বাড়ির আঙিনায় যে টুকু হ্যাচারি করছি প্রতিদিন দেখার জন্য অনেক দূর থেকে অনেকেই আসছেন। আর তারা আমাকে অনুপ্রাণিত করছেন।

তিনি আরো বলেন,আমার প্রায় ৯ শতক জমি রয়েছে এখানে বাড়ি ঘড়। আবার এখানে আধুনি পদ্ধতিতে রেণু থেকে মাছের পোনা করছি। আমার এখানে মাটির তৈরি হাউজ আছে যা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বোতল থেকে রেণু বাহির করা হয়। আর এই রেণু গুলো প্রাথমিক ভাবে মাটির হাউজে নামনো হয়।রেণু গুলো চালু ও শক্তিশালী করার জন্য।রেণু গুলো চালু ও শক্তিশালী হলে এক হাউজ থেকে আর এক হাউজে রাখা হয়। এখান থেকে ১ সপ্তাহের মধ্যে পাইকারা পাকেট জাত ও অক্সিজন দিয়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন। পোনা কিনতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন,এই অঞ্চলের মৎস্য চাষীরা এক সময় রংপুর এবং পাবর্তীপুর থেকে এ মাছের পোনা সংগ্রহ করতেন। এতে খরচের সাথে সময়ও লাগতো অনেক। এখন নিজ জেলায় খামার থাকায় অল্প দামে পোনা সংগ্রহ করছেন তারা।নরেন দাস বলেন,পোনা মাছ সংগ্রহ করতে আসেন জেলার বিভিন্ন স্থানের পাইকারা।

আমাদের অল্প পুঁজি দিয়ে হ্যাচারি চালাতে হয়।অল্প পুঁজির মাছের হ্যাচারি মাঝেমাঝে হিমশিম ক্ষেতে হয়।আদিতমারী উপজেলার ৭নং পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত আলী বলেন, ‘মানিক চন্দ্রের সাফল্য এলাকার তরুণদের মাছ চাষে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁকে অনুসরণ করে এ ইউনিয়নে বর্তমানে ৫০টির বেশি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। এলাকার আরও অনেকেই মানিকের মতো সাফল্য পাবেন বলে আশা করছি।’আদিতমারী মৎস্য কর্মকর্তা ফারাজুল কবির বলেন,মাছ চাষী মানিক চন্দ্রের সফলতার পেছনে রয়েছে তার ঐকান্ত নিরলস প্রচেষ্টা। তিনি সফল মানুষের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। উপজেলা মৎস্য অফিস সব সময় সার্বিক পরামর্শ দিয়ে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য