যারা আল-জাজিরা বন্ধ করতে বলছেন, যারা বলছেন জনগণের সত্য জানার অধিকার চাপা দিয়ে রাখতে হবে; তাদের উদ্দেশে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছে কাতারভিত্তিক ওই সংবাদমাধ্যম। চিন্তার বৈচিত্র্য আর ভিন্নমতের সুরক্ষাসমেত সংবাদমাধ্যম হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ দাবি করেছে তারা।

৫ জুন সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসরসহ ৬ দেশ। এরপর সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন ৪ দেশের জোট। জবাব দেওয়ার জন্য বেধে দেওয়া হয় ১০ দিনের সময়। শর্তে কাতারকে দেশটির সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। তবে গতকাল সোমবার সৌদি জোটের পক্ষ করে ওই সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেছেন তারা। আল-জাজিরার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:

সাংবাদিকদের জন্য হুমকি আর চাপমুক্তভাবে কাজের স্বাধীনতা দাবি করছে আল-জাজিরা।

আমরা চিন্তার বৈচিত্র্য চাই, ভীতির বিপরীতে চাই ভিন্নমতের সুরক্ষা।

আমরা অবিকৃত তথ্যে জনসাধারণের অবাধ প্রবেশাধিকার চাই।

আমরা চাই সাংবাদিকদের অপরাধী গণ্য করা হবে না।

যেসব মানুষের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে থাকে, আমরা তাদের কথা শুনতে চাই। আমরা তাদের কথা শোনাতেও চাই।

আল-জাজিরা বিশ্বাস করে, এই চ্যানেলের সম্প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা এটি বন্ধের পায়তারা মত প্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত ছাড়া আর কিছু নয়। এটি জনতার তথ্য পাওয়ার এবং নিজস্ব মত প্রকাশ করার অধিকারকে দমন করার প্রচেষ্টা।

কাতারকে দেওয়া শর্তে ১০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস ও তুরস্কের একটি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতেও বলা হয়। এ ছাড়া মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, কথিত সন্ত্রাসী হসন্তান্তর, সৌদি জোটের প্রতি আনুগত্য এবং আইএস–আলকায়েদা আর হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে কাতারকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য