দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৯নং হামিদপুর ইউনিয়নের সবুজ সাথী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রী ও খলিলপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র, দিনমজুর ও প্রতিবন্ধি শাহীনুর মোল্লার কিশোরী কণ্যা (১২) প্রতিবেশী লম্পট সহিম উদ্দিন মোল্লা (৩০) কর্তৃক ধর্ষিত হয়ে এখন ৭ মাসের অন্তঃস্বত্বা। লোক লজ্জার কারনে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে অনেক দিন হলো। নিরাপত্তাহীনতার কারনে মেয়েটিকে তার নানা-নানির হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের নানা মোঃ জহুরুল হক (৬০) দিনাজপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে অভিযোগ এবং পার্বতীপুর মডেল থানায় গত ১৬ জুন ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ সালের ৯ (১) ধারায় নিয়মিত মামলা করেন। এর আগে গত ২জুন এলাকার ইউপি মেম্বার ও গণমান্য ব্যক্তিদের এক সালিশ বৈঠক হয় সহিম উদ্দিন মোল্লার বাড়িতে। সেখানে সহিম উদ্দিন তার অপরাধ স্বীকার করলেও ভিকটিম ও তার গর্ভের সন্তানের দায়ভার নিতে রাজি হয়নি।

এদিকে, মামলা করার পর থেকে ভিকটিমের পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অব্যাহতভাবে চাপ ও অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে বলে ভিকটিমের নানা ও মামলার বাদি মোঃ জহুরুল হক গত ২৯ জুন দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কাছে এক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ রহস্যজনক কারনে আসামীকে গ্রেফতার করছে না।

ভিকটিমের মা মোছাঃ জহুরা খাতুন জানান, তার স্বামী শাহীনুর মোল্লা একজন প্রতিবন্ধি মানুষ। তাদের কোন সহায় সম্পদ নেই। দুই সন্তান নিয়ে দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে তাদের সংসার চলে। স্বামী অন্যের বাড়ি, জমিতে দিন মজুরী দেন। জহুরা নিজেও ইট ভাটা ও মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। স্কুল পড়–য়া কিশোরী মেয়েকে বাড়িতে একাকী রেখে তারা স্বামী স্ত্রী দু’জন নিয়মিত সকাল ৮টার আগেই কাজে চলে যান। এসুযোগে প্রতিবেশি সহিম উদ্দিন মোল্লা শাহিনুরের বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষন করে। সেই সাথে ঘটনা ফাঁস করলে ভিকটিমকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে বিয়ে করার প্রালোভন দেখিয়ে নিয়মিত মেলামেশা করে। এতে মেয়েটি অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে।

ভিকটিমের নানা পূর্ব সুকদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জহুরুল হক বলেন, শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পেয়ে আমার মেয়ে জহুরা খাতুন তার মেয়ের কাছে জিগ্যাসাবাদ করে সব জানতে পারে। এলাকার ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদ বলেন, এ নরপশুর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এলাকার বাসিন্দা মোঃ মোজাফফর বলেন, সহিম উদ্দিন মোল্লার আরও অনেক লাম্পট্যের ঘটনা এখানকার মানুষ জানে।

এব্যপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ সিরাজুল হক বলেন, মেয়েটি ৭ মাসের অন্তঃস্বত্বা। ভিকটিমের গর্ভের সন্তান যাতে স্বীকৃতি পায় এবং অসহায় পরিবারটি উপকৃত হয় সে লক্ষ্যে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও অপরাধীকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য