ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ শত বিড়ম্বনা মাথায় নিয়ে যারা স্বজনদের সাথে ঈদের আনান্দ ভাগাভাগী করার জন্য কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ীতে আসে, ঈদের আনান্দ শেষ হতে না হতেই, আবারো কর্মক্ষেত্রে ফিরতে গিয়ে একই বিড়ম্বনার শিকার হয়।

গত শনিবার ঈদের ছুটির শেষ দিনে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে রেল ও বাসষ্টান্ডে কর্মক্ষেত্রে ফিরা মানুষের উপচেপড়া ভিড় জমে। ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ পাওয়ার সামিল, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও মিলছেনা বাসের টিকিট, একারনে অনেকে ট্রেন ও বাসের ছাঁদে চড়ে জিবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেখা যায়। বাস ও ট্রেনের টিকিট মাস্টারেরা জানালেন, গত ২৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে এই ভিড়, আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। তাই এই ভিড় চলবে আরো কয়েকদিন।

এদিকে ট্রেনের টিকিট কালো বাজারীতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, কয়েক জন রেল যাত্রী স্টেশনের চা-ষ্টল থেকে অতিরিক্ত মূল্য টিকিট ক্রয় করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

লক্ষিপুর গ্রামের বাসীন্দা গার্মেন্টস কর্মি আশরাফ আলী বলেন ৬০০ টাকার বাসের টিকিট এক হাজার টাকা দিয়েও পাননি, একই কথা বলেন আলাদিপুর গ্রামের গার্মেন্টস কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ও ভবানীপুর এলাকার বাসীন্দা শাহ আলম ও সুজন সরকার।

ফুলবাড়ী রেওয়ে স্টেশন মাষ্টার হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, ঢাকা যাতায়াত করে, এছাড়া খুলনা দু’টি, রাজশাহী দু’টি আন্তনগর ট্রেন যাতায়াত করে। এই স্টেশনে ঢাকা যাতায়াত করা তিনটি ট্রেনে ৮০টি, খুলনা যাতায়াত করা দু’টি ট্রেনের ২০টি ও রাজশাহী যাতায়াত করা দু’টি ট্রেনের ৪০টি আসন বরাদ্ধ আছে। অথচ এই স্টেশনে প্রতিদিনে যাত্রীদের চাহিদা থাকে এর দ্বিগুন, ঈদ এসে এই চাহিদা আরো কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঢাকা গামী কোচ হানিফ এন্টার প্রাইজের টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার আজিজার রহমান বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তায় দিবা-রাত্রী ২৩টি কোচ যাতায়াত করে, ২৩টি কোচে ফুলবাড়ীর জন্য ১০০ সিট বরাদ্ধ আছে, কিন্তু ঈদের ছুটি হওয়ায় প্রতিদিনে ৫০০ টিকিটের চাহিদা দেখা দিয়েছে,।নাবীল এন্টার প্রাইজের টিকিট ম্যানেজার মামুনুর রশিদ বলেন ফুলবাড়ী দিয়ে দিবা-রাত্রী আটটি বাস যাতায়াত করে থাকে, প্রায় ৪০টি সিট বরাদ্ধ আছে কিন্তু চাহিদা এর দ্বিগুন।

ফুলবাড়ী উপজেলাটি দিনাজপুর জেলার দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ, ফুলবাড়ী পৌর শহরের কোলঘেষে পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলা। এই উপজেলাগুলোর অধিকাংশ বাসীন্দারা ফুলবাড়ী হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া ফুলবাড়ী পৌর শহরের কোলঘেষে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ, বড়পুকুরিয়া তাপবিদুৎ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া কঠিনশীলা খনি ও উত্তারাঞ্চলের বৃহৎ বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী, এখানে কর্মরত কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী, দর্শনার্থীরা ফুলবাড়ী শহর দিয়ে যাতায়াত করে। এই কারনে সারা বছর রেল ও কোচ কাউন্টার গুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকে, ঈদ আসলেই এই ভিড় আরো কয়েকগুন বেড়ে যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য