কুড়িগ্রামের উলিপুরে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ হাজার দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফএর’ ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ১৩ কেজি করে পোকা খাওয়া,মরা গম আংশিক বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের মানুষজন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

উপজেলা ত্রাণ শাখা থেকে গত ১৫ জুন প্রতিটি ইউনিয়নের নামে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান গণ ভিজিএফ’র চালের পরিবর্তে খাওয়ার অনুপোযোগি পোকা খাওয়া,গম এলএসডি গোডাউন থেকে উত্তোলন করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এসব গম বিভিন্ন ইউনিয়নের দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে আংশিক বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলার দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের মধ্যে থেতরাই ইউনিয়নে ৫ হাজার ২’শ, দলদলিয়া ইউনিয়নে ৫ হাজার ৭৭, দূর্গাপুর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪’শ ৭৪, পান্ডুল ইউনিয়নে ৫ হাজার ৭৯, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে ৭ হাজার ২’শ ১৮, ধরণীবাড়ী ইউনিয়নে ৬ হাজার ১’শ ১৩, ধামশ্রেনী ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭’শ ৫৫, গুনাইগাছ ইউনিয়নে ৬ হাজার ১’শ ৮৯, বজরা ইউনিয়নে ৬ হাজার ৮’শ ৫৮, তবকপুর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৬’শ ৯২, হাতিয়া ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩’শ ৩০, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ৩ হাজার ৮’শ ২৮, সাহেবের আলগা ইউনিয়নে ৪ হাজার ৪’শ ৬২ ও উলিপুর পৌরসভায় ৩ হাজার ৮১ জন।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান পোকা খাওয়ার গমের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি কিন্তু কোন সমাধান পায়নি। গম নিতে অস্বীকৃতি জানালে গুদাম কর্মকর্তা তাকে গম নিতে বাধ্য করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন এখন পযর্ন্ত কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি। তবু ও তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান।

উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গম গুলো গত বছরের তাই কিছুটা পোঁকা খাওয়া হলে ও জীবন্ত পোকা নয়। মানুষের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলহাজ্জ খালেদুল ইসলাম জানান রৌমারী থেকে আনা সাড়ে ৩ টন গম পোকা ধরা ছিল তা ট্যালেট দিয়ে পোঁকা মুক্ত করা হয়েছে। তবে এ পোকা কোন ক্ষতি করবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য