ইদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করা মানুষজন। বাস ও ট্রেনের টিকেট এখন সোনার হরিণ হয়ে পড়েছে ঢাকাগামী মানুষদের কাছে। এ সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু কালোবাজারি টিকেট কালো বাজারে বিক্রি করছে তিন গুন দামে। ডোমার হতে ঢাকার ট্রেনের টিকেট ৪৯৫ টাকা হলেও কালোবাজের তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

শনিবার ডোমার স্টেশনে আশিকুর নামের এক যুবক ঢাকার টিকেট নেওয়ার জন্য টিকেট কাউন্টারে দাড়ালে তাকে জানানো হয় ইদের আগেই ঢাকাগামী ফিরতি টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে আশিকুর প্রতিবেদককে জানায়, টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়ে চলে আসার সময় এন্তাজুল নামের এক কুলি তাকে টিকেট দিতে চায়। তবে সেজন্য ১৫০০ টাকা লাগবে। তাই টিকেট না নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

ডোমার পৌরসভার সবুজপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম (২৫) ও বোড়গাড়ি ইউনিয়নের চান্দিনাপাড়া এলাকার মো: আসিফ (২৫) জানায়, তারা দুই বন্ধু গত বৃহস্পতিবার বিকালে রুপসা ট্রেনে করে চিলাহাটি যাওয়ার জন্য ডোমার স্টেশনে আসে। স্টেশনে এসে তারা টিকেট নিতে গেলে তারা দেখে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নাই। অনেক খোঁজাখুজির পর তারা দেখতে পায় স্টেশনের কর্মকর্তারা টিকেট কালোবাজারিদের সাথে এক কোনে কথা বলছে। ওই কর্মকর্তাদের কাছে চিলাহাটি যাওয়ার টিকেট চাইলে তারা বলেন ট্রেনে টিকেট নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। আমরা এখন ব্যস্ত আছি। কথাবার্তার একপর্যায়ে রুপসা ট্রেন এসে চিলাহাটি চলে যায়। আর টিকেট না পেয়ে জাহিদুল ও আসিফ দুই বন্ধু আর চিলাহাটি যেতে পারে না। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে স্টেশনের ওই কর্মকর্তাদের সাথে বাগবিগন্ডাও করে। এতে সাধারন যাত্রীরাও তাদের সাথে সুর মেলায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই দুই কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।

পৌরসভার শাহিপাড়া এলাকার মো: বাবু হোসেন (২৮) জানান, আমি প্রায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে স্টেশনের চায়ে দোকানদার জনির কাছ থেকে থেকে টিকেট কিনি। তবে আজ জনির কাছে বেশি দামে টিকেট চাইলে সে চুপ হয়ে থাকে। তার পাশ থেকে এন্তাজুল নামে এক কুলি বলেন দুই টি টিকেটের জন্য ২৫০০ টাকা লাগবে। আমি দুই হাজার টাকা দিতে চাইলে আমাকে তারা টিকেট দেয় নাই। বাবু বলেন, স্টেশনে ওই সময় এক সাংংবাদিক থাকায় জনি সাবধান হয়ে টিকেট কালোবাজারে নিজে বিক্রি না করে কুলির দাড়ায় বিক্রি করাচ্ছে।

টিকিট কালোবাজারি ও স্টেশনের কুলি মো: এন্তাজুল ইসলাম (৫২) বলেন, একটি টিকেট নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। টিকেট নেওয়ার সময় লাইনে যে দাঁড়ায় তাকে এক শত হতে দেড় শত টাকা দিতে হয়। যে বিক্রি করে তাকে কমিশন দিতে হয়। এছাড়াও আরো অনেক খচর হয়। তিনি আরো বলেন, এখানে আমার কোন টাকা নেই আমি একটি টিকেট বিক্রি করলে ৬০/৭০ টাকা পাই।

টিকেট কালোবাজারে বিক্রির ব্যপারে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, এতে আমার কোন কিছু করার নাই। আমি ঢাল নেই তালোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য