এক থেকে দেড় বছর আগে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ডোমার রেলগেট থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে এই কাজ শুরু হয়। তবে রাস্তা সংস্কারের তিন মাসের মাথায় রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় এমন গর্ত হয়েছে যে জনগনের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে। ডোমার থেকে দেবীগঞ্জ এবং ডোমার থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত রাস্তাটি চলচলের অযোগ্য হয়ে পরায় মানুষজনকে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। ডোমার-চিলাহাটি সড়কটির কাজ শুরু করা হলেও কচ্ছপগতির কাজের দরুন রাস্তার সব খোয়া ধুলায় পরিনত হয়েছে।প্রতিদিন পানি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও পানি না দেওয়ায় ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। ইটের খোয়াগুলো ধুলায় পরিণত হওয়ায় যে কোন গাড়ী যাতায়াত করলে লাল ধুলায় পরিনত হয়ে যায় ঐ এলাকা।

গত তিনমাস আগে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনও ৪০ ভাগ কাজও সমাপ্ত না হওয়ায় মানুষজনকে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুড়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডোমার-দেবীগঞ্জ সড়কটির বেশিরভাগ জায়গা খানা-খন্দে ভরে গেছে। রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনেই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর পানি হলেতো কথা নেই। সামান্য পানিতেই তলিয়ে যায় রাস্তা। ছোট থেকে বড় সব রকমের যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে এই রাস্তাটি।ডোমার থেকে দেবীগঞ্জ যেতে ১০ মিনিট সময় লাগলেও রাস্তার বেহাল অবস্থার কারনে প্রায় একঘন্টা লাগে ডোমার থেকে দেবীগঞ্জ যেতে।

বিশেষ করে শহরের মুল সড়কের রাস্তাটি বেশিরভাগ জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় মানুষজন এই রাস্তাদিয়ে চলাচল করতে পারছেনা।প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ঢাকার গাড়ী ও পঞ্চগড় থেকে পাথর ও বালুবাহী ১২ চাকার প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক চলাচল করে। ১২ চাকার ট্রাক এই রাস্তাদিয়ে চলাচলের নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও মটরশ্রমিককে প্রতিদিন চাঁদা দিয়ে এই রাস্তাদিয়ে চলাচল করছে।

অনেকেই বলছে ১২ চাকার ট্রাক চলাচল করায় রাস্তার এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার এই বেহাল দশার সোহেল এসকে নামে এক ছাত্রনেতা জানান,ডোমার বাসষ্টান্ডের রাস্তাটি এতটাই চলাচলের অযোগ্য যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তিনি বলেন রাস্তাটি এতই ভঙ্গুরযে প্রতিনিয়ত এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। আর বাসষ্টান্ড থেকে উপজেলা সড়কটি সামান্য পানিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই রাস্তা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রতিদিনেই চলাচল করলেও তাদের এই দৃশ্য চোখে পরেনা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই রাস্তা নিয়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য করলেও কোন কাজে আসছেনা। ডোমার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আখতারুজ্জামান সুমন রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, এই রাস্তাগুলো পৌরসভার না। মেরামত বা তৈরি করার কোন ক্ষমতাও নেই পৌরসভার। ডোমার-দেবীগঞ্জ সড়কটি নির্মান করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ আর চিলাহাটি সড়কটি এলজিইডির। আর পৌরসভার ভিতরের রাস্তা করার দায়িত্ব পৌরসভার। পৌরসভার অনেক রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। আর যেসব রাস্তা এখনও তৈরি হয়নি তারও প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য