সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে তিনটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রোববারের ওই গাড়িবোমাগুলোর মধ্যে একটির বিস্ফোরণে সাত জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। মার্চে ধারাবাহিক কয়েকটি আত্মঘাতী হামলার পর এটিই দামেস্কে চালানো এ ধরনের বৃহত্তম হামলা বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সিরীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টাকালে তিন সন্দেহভাজন গাড়িবোমা হামলাকারীকে ধাওয়া করে সিরীয় পুলিশ, এদের মধ্যে দুটি গাড়িকে পুলিশ ধ্বংস করে দিতে পারলেও অন্যটি শহরের তাহিরির স্কয়ারে পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।

তাহিরির স্কয়ারের ঘটনাস্থলে থাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে সাত জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন গাড়িবোমা হামলাকারীদের অন্য দুটি গাড়িকে পশ্চিম দামেস্কের পৃথক দুটি এলাকায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে না পারায় হতাহতের সংখ্যা কম হয়েছে।”

ঈদুল ফিতরের পর প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাকে হামলাকারীরা লক্ষ্যস্থল করেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, তাহিরির স্কয়ারের রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ ও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি গাড়ি পড়ে আছে, অন্য একটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধাতুর স্তূপে পরিণত হয়েছে। আরেকটি ফুটেজে অন্য একটি বিস্ফোরণস্থল দেখানো হয়েছে।

দামেস্কের পুরনো শহরে বাইতারা গোল চক্করের কাছে একটি মসজিদের সামনের এ বিস্ফোরণস্থলেও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি দেখা গেছে, পাশাপাশি এক ব্যক্তির দেহাবশেষও দেখা গেছে। গত ছয় বছর ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। এখনও পর্যন্ত দামেস্কের অধিকাংশ এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই সময়ে যুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধের কারণে ৫৫ লাখ সিরীয় দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ সিরীয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য