আজিজুল ইসলাম বারী,চন্দ্রপুর থেকে ফিরে- বাড়ির সবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপনের কথা ছিল ওদের। সবাই এলেনও, তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে। তাদের এভাবে বাড়ি ফেরা মেনে নিতে পরছেন না কেউই। মর্মান্তিক এ মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা। শুধু পরিবার নয়, মাতম চলছে পুরো এলাকায়। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ চিত্র রংপুরের পীরগঞ্জে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এক ইউনিয়নের ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই ইউনিয়নের তিন গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শনিবার ভোরে উপজেলার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের কলাবাগান নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ১৩ জনের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর ,বালাপাড়া ও উত্তর বত্রিশহাজারী গ্রামে বাসীন্দার।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের গেলে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামগুলোতে চলছে শোখের মাতম।

নিহতরা হলেন, উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে শাহাজামাল মিয়ার দুই ছেলে পোশাক শ্রমিক আনোয়ার হোসেন (২০) ও মুমিন আলী (১৭)। উত্তর বত্রিশহাজারী গ্রামে জাহাঙ্গীর আলমের দুই ছেলে মন্জু মিয়া (২২) ও রবিউল ইসলাম (২৮)। একই গ্রামের বাবা ও মেয়ে ঝন্টু মিয়া (৩৫) ও মেয়ে সুবর্ন (৯), আহম্মেদ আলীর ছেলে কহিনুর (৩৫) ও দেলোয়ার হোসেন (৩৫) লতাবর গ্রামের আইয়ুব আলী দুই ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৫) ও আলমঙ্গীর হোসেন (২০), সাদ্দাম হোসেন স্ত্রী খাদিজা (১৮) ও তার তাওয়াত ভাই জসীম (২৫), মনির (২৮)।

নিহতরা কেউ গাজীপুরে অটোরিকশা শ্রমিক ও পোশাক শ্রমিক।এলাকাবাসীরা এই প্রতিবেদকে জানান, উপজেলার চাপারহাট এলাকার আ: করিমের সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক টি মালিক হওয়ায় কম খরচে গাজীপুর কোনা বাড়িতে থেকে ওই এলাকা সকলেই সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে উপরে চেপে বসে। রংপুরের পীরগঞ্জের কাছে আসলে ট্রাকটি উল্টে গেলে ১৭ জন নিহত হয়।

চন্দ্রপুর ইউনিয়নের জালাল উদ্দিন জানান, সকলেই ঈদে ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় আব্দুল করিমের ট্রেকে কম টাকা ভাড়া ঠিক উপরে উঠেন।এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে জানতে পরছি এ উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য