মন ভরে দেখেছি আকাশ/ শেষ কবে কিছু মনে নেই/ আজ এতদিন পরে বুঝি বনের পাখিটা বনে নেই/ এভাবে কতদিন যাবে/ কী করে বাঁচতে হয় তুমি কি শেখাবে?

উপরের কথাগুলো নচিকেতার নতুন একটি গান থেকে নেওয়া। শুধু একটিই নয়, ২৩ জুন গোটা একটি অ্যালবামই প্রকাশ পেয়েছে তার। অন্যরকম এই অ্যালবামের নাম ‘বেঁচে থাকার মানে’। টানা ৮ বছরের অভিমান ভেঙে নচিকেতার সর্বশেষ একক অ্যালবাম এসেছিল বছর দুই আগে।

বরাবরের মতো নিজের কথা-সুরে বাঁধা ঐ অ্যালবামের নামটি ছিল ‘আয় ডেকে যায়’। না, এবার আর নতুন এককের জন্য অতোটা সময় নেননি দুই বাংলার অসম্ভব জনপ্রিয় বিষয়ভিত্তিক গানের এই শিল্পী।

বরং দুই বছর ব্যাবধানে প্রকাশিত এবারের এককে তিনি চমকে দিয়েছেন দুই বাংলাকেই। কারণ, এবারই প্রথম তিনি অন্য কোনও গীতিকবির লেখা গানে পুরো অ্যালবাম সাজিয়েছেন নিজের কণ্ঠ-সুরে। এবং সেই গীতিকবি কলকাতার কেউ নন, গানগুলো লিখেছেন বাংলাদেশের জুলফিকার রাসেল।

বিশেষ এই অ্যালবামটি গেল কাল (২৩ জুন) ডিজিট্যালি ও ফিজিক্যালি মুক্তি পেয়েছে কলকাতার অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আশা অডিও থেকে। কিন্তু কেন হঠাৎ নচিকেতা অন্যের কথায় পুরো অ্যালবাম গাইলেন! তাও আবার বাংলাদেশের গীতিকবিকে সঙ্গে নিয়ে- এমন প্রশ্নের জবাব নচিকেতা আগেও দিয়েছেন, বলেছেন এবারও। তার ভাষায়, ‘দেখুন আমি একটা বিষয় লক্ষ করেছি- ঢাকায় খুব বেশি গান লেখার মানুষ নেই। আমি অন্তত খুঁজে পাইনি।

যে দু’একজন আছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম জুলফিকার রাসেল। তার আসলে গানটা লেখা হয় কিংবা আমি যা চাই তা তার লেখায় খুঁজে পাই। সেজন্যই গেল ক’বছর ধরে আমরা নিয়মিত গান করে আসছি নিজেদের খেয়ালে। যার প্রায় অধিকাংশই এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের সেই যৌথ ভা-ার থেকে এবার সাতটি গান দিলাম। দুই বাংলার ভালো লাগবে- আশা তো করতেই পারি।

‘বেঁচে থাকার মানে’ অ্যালবামের সব গানের সংগীতায়োজন করেছেন টুনাই দেবাশীষ গাঙ্গুলী। আর গানগুলোর শিরোনাম এমন- তুমি কি শেখাবে, সবুজ ছিল, তুমি আছো তাই, নেমেছে বৃষ্টি, এক সাহস কার, উপেক্ষিত ছাতা এবং আমার এক গোলাপ। এদিকে নচিকেতার সঙ্গে পুরো অ্যালবাম করা প্রসঙ্গে জুলফিকার রাসেল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন এভাবে, ‘আমার তখন বয়স কম।

নব্বই দশকের প্রথম দিককার কথা। তার (নচিকেতা) গান শুনে কী যে মুগ্ধ হয়েছিলাম তা এখন বলে বোঝাবার মতো নয়! তার প্রতিটি গান জীবনের সহজ স্বাভাবিক কথাকে সুরে বাঁধানো এক একটি উপন্যাস বলেই মনে হয়েছে আমার! সেই প্রিয় শিল্পী নচিকেতা, যার কণ্ঠে গান শুনে দারুণ আলোড়িত হয়েছি- এবার তার অ্যালবামের জন্য গান লিখেছি!

তাও একটি দু’টি নয়, পুরো অ্যালবাম-এর সব ক’টি! আশা করছি আমার মতোই শ্রোতাদের কাছেও গানগুলো পরম পাওয়া হয়ে থাকবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য