সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই’র আট রাজকুমারীকে আদম ব্যবসার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে বেলজিয়ামের একটি আদালত। তাদেরকে স্থগিত কারাদণ্ডাদেশ দেয়া এবং জরিমানা করা হয়েছে।

ব্রাসেলসের ফৌজদারি আদালত গতকাল ইউএই’র আট রাজকুমারীর বিরুদ্ধে রায় দেয়। এ রাজকুমারীরা হলেন আবু দাবির সাবেক শাসক আন নাইয়ান পরিবারের সদস্য এক মা এবং তার সাত মেয়ে। রাজকুমারীদের আইনজীবী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আদম ব্যবসা এবং কাজের লোকদের সঙ্গে বদ ব্যবহারের জন্য তাদেরকে ১৫ মাসের কারাবাসের স্থগিত দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

শেখ হামিদা আন-নাইয়ান ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বেলজিয়ামের রাজধানীর বিলাস বহুল কনরাড হোটেল অবস্থান করেছিলেন। সে সময়ে ২০ জনের বেশি পরিচারিকার বিরুদ্ধে বদ আচরণ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।

পরিচারিকাদের খুবই অল্প বেতন বা বিনা বেতনে কখনো কখনো এক নাগাড়ে ২৪ ঘণ্টা খাটতে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে ইউএই’র সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং বিশ্বের অন্যতম ধনী পরিবারের সদস্যরা ‘অমানবিক’ আচরণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন।

পরিচারিকাদের পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হতো না, তাদেরকে জুটা এবং পরিত্যক্ত খাবার খেতে বাধ্য করা হতো। বিছানায় ঘুমাতে দেয়া হতো না এবং হোটেল থেকে কোথায় বের হতে দেয়া হতো না বলে অভিযোগ করা আনা হয়েছিল। কারাগার সাদৃশ্য হোটেল থেকে একজন পরিচারিকা পালাতে সক্ষম হয় এবং বেলজিয়ামের পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পর এ সব বিষয়ে প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়া, পরিচারিকাদের জন্য কোনো ভিসা নিতে রাজকীয় পরিবারের সদস্যরা অস্বীকার করার জেরে তাদের আদম ব্যবসার অভিযোগ পড়তে হয়।

আদালতে আদম ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে অমানবিক আচরণকে এর চেয়ে মারাত্মক অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তা থেকে এ পরিবারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আদালত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে মাথাপিছু এক লাখ ৮৫ হাজার ডলার সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করেছে। অবশ্য জরিমানার অর্ধেক অর্থ স্থগিত রাখা হয়েছে।

মামলা চলাকালে রাজকুমারীরা একবারও আদালতে উপস্থিত হননি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য