গাইবান্ধার সাঘাটায় পিতাসহ একই পরিবারে চার জন প্রতিবন্ধি। সরকারী সহায়তার আশার জনপ্রতিনিধির কাছে ঘুরেও ভাগ্যে জোটেনি কোন প্রতিবন্ধি কার্ড। পরিবারের একমাত্র কর্মজীবি মা পরের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে স্বামী সন্তানকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে এ ভাবেই চলে তাদের সংসার। এ ছাড়া স্থানীয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরে সরকারী সহায়তার আশায় ঘুরেও কোন ফল পায়নি তারা।

সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ঝড়াবর্ষা গ্রামের মৃত-ওমেদ আলীর পুত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আব্দুস ছোবাহান (৫৫) এর ১ মেয়ে সুমিআকতার (২৫) ২ পুত্র বিদ্যুৎ মিয়া (১৮) ও তফু মিয়া (১৫) এরা ৩ জন বাক প্রতিবন্ধি। এ নিয়েই তার সংসার। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বরদের কাছে ঘুরেও আজ পর্যন্ত ভিজিডি, ভিজিএফ, বিশেষ বরাদ্দ ও প্রতিবন্ধি কার্ডসহ সরকারী কোন সহায়তা পায়নি।

পরিবারের এক মাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি দৃষ্টি বন্ধির স্ত্রী ও বাক প্রতিবন্ধির মা আবেদা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে যে টুকু মজুরি পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই এক বেলা খেয়ে দু’বেলা না খেয়েই চলে আমাদের সংসার। ইউনিয়নের জন প্রতিনিধিদের কাছে সরকারী সহযোগীতার জন্য গেলে তা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে থাকে। এ ছাড়া সাঘাটা সমাজ সেবা অধিদপ্তরে প্রতিবন্ধি কার্ডের জন্য গেলে তারা বলেন, চেয়ারম্যান, মেম্বর ছাড়া আমাদের কার্ড দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই।

তিনি আরো বলেন, বাক প্রতিবন্ধি মেয়ের বয়স ২৫ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, সংসারে অভাব অনাটন ও টাকা না থাকায় তাকে বিয়ে দিতে পারছি না। বাক প্রতিবন্ধি ২ পুত্র যুবক হয়ে সংসারের আর এক বোঝা হয়ে আছে এবং আমার স্বামীও একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি বয়সের ভারে সে নিজে কোন কাজ করতে পারে না। এ দিকে পরের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে নিজে অসুস্থ্য হয়ে আছি। এ অবস্থায় জনপ্রতিনিধির কাছে গেলে প্রতিবন্ধিরা সমাজের বোঝা মনে করে তাড়িয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে সাঘাটা উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অসহায় এ প্রতিবন্ধি পরিবার সরকারী সহায়তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য