আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বন্যা মানে সাধারণত পানিতে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দুঃখ কষ্ট বেড়ে যাওয়া। ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। কেইউপি বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী বন্যার সাফল্যে যেন ঐ বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা বইছে ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে। ওই উপজেলার একটি বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এটি আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টি পড়াশুনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য চোখে পড়ার মতো।

তারা ইতিমধ্যে বিতর্কে জেলা তথা বিভাগের শ্রেষ্ট্রত্ব অর্জন করেছে। এছাড়াও খেলা-ধুলা ও সাংস্ক্রতিক কর্মকান্ডেও বিদ্যালয়টি উপজেলার সেরা।দশম শ্রেণীর ছাত্রী হাবিবা সুলতানা বন্যা শিশু একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত উপস্থিতি গল্প বলা বিভাগে দেশসেরা গল্পবাগিস হিসেবে গত ১৮/০৫/২০১৭ইং তারিখে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। এটি বিদ্যালয়টির সাফল্যে আরেকটি নতুন পালক যুক্ত হলো। আরও উল্লেখ্য যে, বিগত দিনে অত্র বিদ্যালয়ের রাব্বী ও সম্রাট নামে দুজন ছাত্র জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেছিল।

এ বিষয়ে বন্যার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, সে প্রথমে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করে, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ- এর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই স্বর্ণপদক, সে তা নির্দিধায় স্বীকার করে। আর একজন শিক্ষককে সে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি হলেন অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব বদরুল আলম জাদু-কে। সে আরও বলে, আমি এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং সে বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নতি কামনা করে।পদক প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় অত্র বিদ্যায়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক লক্ষণ চন্দ্র বলেন, আমি উ”ছসিত, আমি গর্বিত। তিনি বন্যার ভবিষ্যৎ সাফল্য ও উন্নতি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি তার অফিস কক্ষে বসার আহ্বান জানান। তারে কক্ষে প্রবেশ করা মাত্র চোখে পড়ল প্রচুর পুরস্কার, ট্রফি, সম্মাননা। যেন তার কক্ষটি একটি পুরস্কার, ট্রফি ও সম্মাননার দোকান।অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদ বলেন, পৃথিবীতে মানুষ বহুমূখী প্রতিভার ভান্ডার নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। বিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে তার যে বহুমূখী প্রতিভা আছে সেগুলো যেন ঠিক ঠিক বিকাশ ঘটে, তার সুযোগ করে দেওয়া। বিদ্যালয় থেকে আমরা লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক বিকাশ যেন ঘটে সেই কাজে একবারে নিবেদিত হয়ে আছি। তার সামান্য কিছু ফল আমরা এখন পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এর ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় পুরস্কারগুলো এক এক করে পাচ্ছি। সর্বশেষে তিনি বন্যার সুন্দর ও ভবিষ্যত উন্নতি কামনা করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য