একটি গাড়ি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পুলিশের একটি ভ্যানকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়ার পর সেটিতে আগুন ধরে যায়। দেশটির পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণের পরের দিন গত সোমবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে শঁস এলিজে অ্যাভিনিউয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই গাড়িটির চালকের মৃত্যু হয়। নিহত চালকের নাম নিরাপত্তা বিভাগের পর্যবেক্ষণ তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।

আগুন নেভানোর পর পুলিশ গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কালাশনিকোভ রাইফেল, কয়েকটি পিস্তল ও গ্যাসের বোতল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ওই চালক নিহত হওয়া ছাড়া আর কেউ কোনো আঘাত পায়নি। “ফ্রান্সে নিরাপত্তা বাহিনীকে ফের লক্ষ্যস্থল করা হল,” ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরা কলম্ব। এ ঘটনাকে ‘হামলার চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

গাড়িটি থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিস্ফোরকগুলো দিয়ে পুলিশের গাড়িটি উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।” ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির প্যারিস প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন, ফাঁকা ওই অ্যাভিনিউয়ের মাঝখানে একটি সাদা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, যার একটি দরজা খোলা। পাশেই স্থানীয় পুলিশ স্টেশন হওয়ায় ওই জায়গায় সব সময়ই পুলিশ ও সশস্ত্র রক্ষীদের অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে।

ওই গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়েছিল। গাড়িটির দরজার কাঁচ ভেঙে দরজা খুলে নিহত চালকের লাশ বের করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তের সঙ্গে জড়িত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘কট্টরপন্থি একটি ইসলামি আন্দোলনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ২০১৫ সাল থেকে ওই গাড়ির চালক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।

প্যারিসের দক্ষিণে এসওনে তার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে প্রসিকিউটর দপ্তরের সন্ত্রাসবিরোধী সেকশন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ফ্রান্সজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য