সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি জঙ্গি বিমানকে যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পর লড়াইরত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীকে সতর্ক করেছে রাশিয়া।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান তাদের লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে দেশটি, খবর বিবিসির। রোববার বিকেলে সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গি বিমানের গুলিতে সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি জঙ্গি বিমান ভূপাতিত হয়।

সিরীয় বাহিনীর ওই এসইউ-২২ জঙ্গি বিমানটি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীদের অবস্থানের কাছে বোমা ফেলার পর সেটিকে ভূপাতিত করা হয় বলে দাবি করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। অপরদিকে দামেস্কের দাবি, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় জঙ্গি বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

সিরিয়ার প্রধান মিত্র রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের উদ্দেশ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করেছে।

আর ঘটনার প্রতিক্রিয়ার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউফ্রেতিস নদীর পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর পরিচালনাধীন যে কোনো আকাশপোতকে, তা বিমানই হোক বা ড্রোন, রাশিয়ার বিমান-বিধ্বংসী বাহিনী অনুসরণ করবে এবং সেটিকে লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে।

তবে জোট বাহিনীর বিমানপোতকে তারা গুলি করে ভূপাতিত করবে কি না তা খোলাখুলি বলেনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিমানগুলোর অবস্থান নতুনভাবে বিন্যস্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র।

সিরিয়ায় তাদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের পথ সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

এসব ঘটনা এমন একসময় ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ও তাদের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা আইএসের তথাকথিত রাজধানী রাক্কায় স্থল অভিযান চালানো উদ্যোগ নিচ্ছে।

২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অংশ দখল করে সেখানে ‘ইসলামি খিলাফত’ ঘোষণা করে তাকে ‘ইসলামি স্টেট’ এবং এর ‘রাজধানী’ রাক্কা বলে ঘোষণা করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য