রংপুরে অস্ত্র মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার আসামী ঘাবড়ি পলাশসহ তিনজনের ১০ ও ১৭ বছর করে কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান পৃথক দু’টি মামলায় এ রায় দেন।

রায়ে কাউনিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলায় উপজেলার হারাগাছ এলাকার চরচতুরা গ্রামের পিয়ার মামুদের ছেলে জহুরুল হকের (৩৬) ১০ বছর এবং রংপুর কোতয়ালী থানার মামলায় শহরের মুন্সিপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে পলাশ ওরফে ঘাবড়ি পশাল (৩১) ও গুড়াতিপাড়া এলাকার মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে মুন্নার (২১) ১৭ বছর করে কারাদ-ের আদেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, হারাগাছের চরচতুরা গ্রামের কবি বেওয়া নামে এক নারীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে উত্যাক্ত করত জহুরুল। ঘটনার দিন ২০০৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কবি বেওয়ার মাথায় পিস্তল ঠেঁকিয়ে কু-প্রস্তাব দেয় জহুরুল। এসময় আতঙ্কে কবি বেওয়া চিৎকার দিলে তার ছোট বোন অমিচা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে জহুরুলের সাথে দুই বোনের ধস্তাধস্তি শুরু হলে প্রাণভয়ে জহুরুল পিস্তল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তৎকালীন কাউনিয়া থানার এসআই আতাউর রহমান বাদী হয়ে জহুরুলকে আসামী করে থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে, ২০১৪ সালের ৮ জুলাই নগরীর ডিস ব্যবসায়ী আলোচিত ফরহাদ হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ঘাবড়ি পলাশকে একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরের দিন রাত রাত দেড়টার দিকে পলাশের শ্যালক মুন্নার গুড়াতিপাড়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি চাইনীজ কুড়াল উদ্ধার করে পুলিশ।

এসময় গ্রেফতার করা হয় মুন্নাকে। এ ঘটনায় এসআই হারেস সিকদার বাদী হয়ে পলাশ ও তার শ্যালক মুন্নাকে আসামী করে কোতয়ালী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দু’টি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর রোববার বেলা দেড়টার দিকে এর রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) আইনুন নাহার পাপড়ী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য