নীলফামারী রেল স্টেশন থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাপানো টিকিট না থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। মালামাল বুকিং এর রশিদে হাতে লিখে টিকিট দেয়া হচ্ছে। হাতে লেখা টিকিট দিয়ে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে পারছেন না টিকিট বুকিং সহকারীরা। খুলনাগামী সীমান্ত ও রূপসা একপ্রেস ট্রেনের সাধারণ শ্রেণীর ছাপানো টিকিট থাকলেও এসি চেয়ার এবং এসি স্লিপিং বাথের টিকিট নেই।

অপর দিকে, ঢাকাগামী নীলসাগর একপ্রেস ট্রেনের কোনও শ্রেণীরই ছাপানো টিকিট নেই। গত ১৭ জুন নীলফামারী রেলস্টেশনে টিকিট নিতে আসা যাত্রী হায়দার আলী (৪৩) বলেন, ‘নীলসাগর ট্রেনে আগামী ২০ জুন ঢাকা যাব। স্টেশন থেকে টিকিট নিয়ে দেখি মালামাল বুকিং এর রশিদ। ওই টিকিট হাতে নিয়ে হতবাক হয়েছিলাম। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি ছাপানো টিকিটের সঙ্কট থাকায় এটা দেয়া হচ্ছে।

একই স্টেশনের অপর যাত্রী পান ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ‘ট্রেনে বেশিরভাগ যাত্রীর হাতে কম্পিউটারাইজ টিকিট থাকে। হাতে লেখা টিকিট নিয়ে ট্রেনে উঠতে কেমন যেন অস্বস্থি লাগে। নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী জাহেদুল ইসলাম রনি বলেন, ‘প্রতিদিন যাত্রীদের এক হাজারের বেশি টিকিট দিতে হয়। বেশিরভাগ ট্রেনের ছাপানো টিকিট থাকলেও ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনও ছাপানো টিকিট নেই।

ফলে ওই ট্রেনের সব শ্রেণি মিলে ৭০টির বেশি টিকিট হাতে লিখে দিতে হয়। এছাড়া নীলফামারী থেকে খুলনাগামী সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি চেয়ার এবং এসি স্লিপিং বাথের ছাপানো টিকিটের সঙ্কট রয়েছে। তাই ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের হাতে লিখে টিকিট দিতে সময় বেশি লাগছে। অপরদিকে, টিকিট নিতে আসা যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট নিতে হচ্ছে।

এ ব্যপারে স্টেশন মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম রতন বলেন, ছাপানো টিকিট শেষ হওয়ার আগে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ না থাকায় ছয় মাস ধরে নীলসাগর ট্রেনের ঢাকার যাত্রীদের টিকিট হাতে লিখে দিতে হচ্ছে। প্রথমদিকে বিপিটি (ব্লাঙ্ক পেপার টিকেট) দেয়া হলেও সেটি শেষ হওয়ার পর প্রায় তিন মাস ধরে মালামাল বুকিং রশিদে টিকিট দিতে হচ্ছে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে তা আমার জানা নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য