মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রেলপথ চালু হবে, বিমানবন্দর চালু করা হবে, রেশম কারখানা চালু হবে। কিন্তু সকল স্বপ্ন ও নেতাদের প্রতিশ্রুতি এখন তো ‘আশাই মরিচিকায়’ পরিণত হয়ে দাড়িয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের দাবি গুলো আমাদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন থেকে তুলে ধরছেন না। যদি দাবি গুলো জড়ালো ভাবে তুলেই ধরতেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আন্ত:নগর ট্রেন চালুর নির্দেশনা প্রদান করতেন বিশ্বাস রাখি। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও কাজে বিশ্বাসী তেলবাজিতে নয়।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর শীর্ষেন্দু নামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে চিঠি লিখেছিল। সেই চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাৎক্ষনিক ভাবে ওই এলাকায় সেতু নির্মানের জন্য পদক্ষেপও গ্রহন করেছেন।

এই থেকে বুঝা যায় যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি গুলো পৌছেঁছে কি না ? মনে হয় আমাদের গণমানুষের দাবি স্থানীয় এমপি/নেতারা পৌছাতে পারে নাই। যদি দাবি গুলো দেশনেত্রীর কানে যেত তাহলে আজ সাধারণ নাগরিককে আন্দোলনে নামতেই হতো না। তাই আমাদের নেতাদের বলছি সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা না করে দয়া করে সময় মত দাবি গুলো তুলে ধরুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী / সরকারের কাছে। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চই ন্যায় দাবি গুলোর জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকে হতাশ করবেন না।

কিছুদিন আগে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় একজন প্রভাবশালী সরকার দলীয় নেতা ক্যামেরার সামনে বললেন, ইতোমধ্যে বিমান বন্দরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের টেন্ডার হয়ে গেছে, যেকোনো সময় কাজ শুরু হবে। অথচ দুই বছর পর যখন রাশেদ খান মেনন পুনরায় ঠাকুরগাঁওয়ে আসলেন তখন তিনি বললেন, বিমানবন্দর চালু করা সম্ভব নয়।

এরপর আওয়াজ উঠল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও সফর করবেন। আবারো স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জানালেন, এবার বিমানবন্দর ও ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রেলপথ চালুর ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মজার ব্যাপার হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও আসার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্তই নেন নি।

সরকার তো জনগণের কথা চিন্তা করে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ট্রেন না চালুর পেছনে কোন অপশক্তি কাজ করছে কি না সেটি সাধারণ জনগণ জানতে চায়? কেন এত টাকা ব্যয় করে তাহলে রেল পথ নির্মান করলেন সরকার। আজ কেন সাধারণ মানুষকে আন্ত:নগর ট্রেন চালুর দাবিতে আন্দোলনে যেতে হচ্ছে?

যেহেতু আমরা আন্দোলনে নেমেছি ট্রেন চালুর সিন্ধান্ত নিয়েই ঘরে ফিরবো। স্থানীয় নেতাদের কথা যদি প্রধানমন্ত্রী নাই রাখেন, আশা রাখি এবার জনগনের কথা ফেলবেন না, তিনিই বাস্তবায়ন করবেন। আমাদের এই আন্দোলন থেকে পিছু পা হলে স্বপ্নপূরণ হবে না জেলার সাধারণ মানুষের। তাই দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন কঠোর করে তুলতে হবে। এ যাবত কালে কোন দেশেই জনগনের ন্যায় দাবির আন্দোলন বিফলে যায়নি, বিফলে যেতে দেয় না।

আমাদের দাবি শুধু আন্ত:নগর ট্রেনেই সীমাবদ্ধ রাখবো সেটা কিন্তু নয়। এই দাবি বাস্তবায়ন করে অন্যান্য দাবি গুলো বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।

বি:দ্র: প্লিজ শুধু আন্দোলনের ব্যানারের সামনে ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করে আমরা সীমাবদ্ধ থাকবো না। নিজের ক্রেডিট পাওয়ার জন্য শুধু আন্দোলন করবো না। যেহেতু মন্ত্রী/এমপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ইমেজ নষ্ট করার জন্য একটি কুচক্রি মহল প্রতিশ্রুতি পূরনে বাধা গ্রস্থ করছেন তা চিহ্নিত করতে হবে। দাবি পূরনে সকল পদক্ষেপ গ্রহনের উদ্যোগ নিতে হবে। নেতাদের মতই আন্দোলকারীরা যেন জনগনের সাথে প্রতারণা না করতে পারে সে দিকেও সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।

ঠাকুরগাওয়ের তরুন সাংবাদিক তানভির হাসান তানু ক্ষোভ প্রকাশ করে কথা গুলো লেখেন তার ফেসবুক পোস্ট এর মাধ্যমে তিনি চান ঠাকুরগাওয়ের গনমানুয়ের দাবী আদায়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা বিশেষ দৃষ্টি দিবেন সেই সাথে ঠাকুরগাও বাসির একটি স্বপ্ন পুরন হবে বলে আশা করছেন সুশিল সমাজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য