আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদের এখনও ১০ দিন বাকি থাকলেও এ উৎসবকে ঘিরে লালমনিরহাট সদরসহ পাঁচ উপজেলায়
বস্ত্রবিতান গুলো জমে উঠেছে। বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের নতুন পোশাক কেনাকাঁটার প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের ভীড়ে দম ফেলানোর সময় নেই ব্যবসায়ীদের। বস্ত্রবিতানগুলো বাহারি পোশাকে অপরূপ সাঁজে সাঁজানো হয়েছে।

বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের চাহিদানুযায়ী এবারও দোকানীরা সাঁজিয়েছে নতুন নতুন দেশী ও বিদেশী কাপড়।নিউ মার্কেট, মৌসুমী মার্কেট ও শাহান মার্কেটসহ শহরের সব মার্কেটে শাড়ি-পোশাক, প্রসাধনী আর জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। বরাবরের মতো এবারো বাহারি নাম নিয়ে মেয়েদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ছেলেদের পোশাকের তালিকায় প্রাধান্য পাচ্ছে পাঞ্জাবি। জিন্স, শার্ট আর টি-শার্টও বেশ চলছে।

পছন্দের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা-স্যান্ডেল কিনতে জুতার দোকান গুলোতেও ভীড় করছেন ক্রেতারা। এবারের মেয়েদের শাড়িতে কারুকাজে ভরা। এ সব শাড়ির চাহিদা বেশী। এই শাড়ি নিম্নে ১ হাজার ৫ শত টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে বাজারে আকর্ষণ কেড়েছে লেহেঙ্গা তার বাজার মূল্য সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত।

তবে পুরুষের পোশাকের দোকান গুলো পন্য তোলার ও বেচাকেনায় তেমন পিছিয়ে নেই। হাতে কাজ করা পুরুষদের বাহারী পাঞ্জাবী, থাই, ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবী, কাটপিচ, টিশার্ট, জিন্স প্যান্ট, স্টিচ ও গাভারী প্যান্ট সহ দেশি বিদেশি পোশাকে শোভা পাচ্ছে জেন্টস দোকান গুলোতে। সমান তালে চলছে কসমেটিক্স এর দোকান গুলোও ইদকে সামনে রেখে মেহেদী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাজসজ্জার দেশি বিদেশি কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন ধাতুর তৈরী গহনায় দোকান গুলো যেন অন্যরকম আলো ছড়াচ্ছে।

ক্রেতাদের সরূপ উপস্থিতি আলোর ছটাকে যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে দিন রাত কাজ করে নির্ঘুম কাঁটাচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটের দর্জিরা। প্রতিবারের তুলনায় এবার রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই পোশাকের বেশি বেশি অর্ডার থাকায় তারা এখন দিন রাত কাজ করতে হচ্ছে বলে জানান তুষভাণ্ডার বাজারের ডিসেন্ট টেইলার্সের মালিক। বেশি ভাগ ব্যবসায়ী জানান,মেয়েদের পছন্দে রয়েছে পাখি, ঝিলিক বিভিন্ন রকমের বাহারী থ্রি পিচ।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লাবনী সরকার জানান, ঈদের কেঁনাকাটা কিছু করেছি আরো বাকি আছে। থ্রি পিছের মধ্যে কোনটি পছন্দ এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, বাজারে নতুন আকর্ষন বাহারী রঙের ড্রেস পছন্দ করে নিব। সদর উপজেলার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এমনিতেই এখন বর্ষাকাল তাছাড়া ঈদের কাছাকাছি সময়ে যদি মার্কেটিং করা হয় তখন দাম ও বেশি থাকে আর পছন্দের পোশাক পাওয়া যায়না।

পোশাকের দাম ও মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের পোশাক বাজারে দেখা যাচ্ছে। তবে গত বারের তুলনায় আমার কাছে মনে হচ্ছে দামটাও একটু চড়া। লালমনিরহাট এসপি এসএম রশিদুল হক জানান,ঈদকে সামনে রেখে ঈদ বাজার ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা সর্তকবস্থানে রয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না হয় তার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য