দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় সরকারীভাবে চাল সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। পর্যাপ্ত চাল খাদ্য বিভাগ সংগ্রহ করতে না পারলে ভিজিডি-ভিজিএফসহ সরকারী ত্রাণ সরবরাহে চালের সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পরিমাণ চাল ও কেনার জন্য চুক্তি করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

এ ছাড়া ভরা মৌসুম চললেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশী থাকায় মিল মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনায় সরকারী খাদ্য গুদামে চাল দিচ্ছেন না। এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকারীভাবে খাদ্য বিভাগ ইরি-বোরো মৌসুমে চাল ও গম সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। ১মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন চাল সরবারাহকারী রাইচ মিল ও অটো মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে খাদ্য বিভাগ।

১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলছে চাল সংগ্রহ করা হবে। সরকারীভাবে কেনার জন্য প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের মূল্য ৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারীভাবে সিদ্ধ চাল ৩৪ টাকা কেজি দরে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও স্থানীয় বাজারে ৪২ টাকা কেজির উপরে বিক্রি হচ্ছে সেই চাল। সরকারীভাবে দাম নির্ধারন করা চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করলে রাইচ মিলের মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন সে কারণে এই উপজেলায় সিংহ ভাগ রাইচ মিল খাদ্য গুদামের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি করেনি। এতে এ অঞ্চলে চাল সঙ্কট পড়বে বলে খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

উপজেলায় ১৩৯ টি মিলের মধ্যে ১৫টি রাইচ মিল চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করেছেন। ১৫ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন চুক্তিবদ্ধ মিলারগণ খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করেন নাই বলে কাহারোল উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল মোস্তফা আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। বাজার মূল্য বেশী থাকায় মিলাররা চাল সরবরাহ করছেন না খাদ্য গুদামে। এবার উপজেলার খাদ্য গুদামে ২ হাজার ১শত ৩২ মে.টন চাল ৩৪ টাকা দরে ক্রয় করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য