রজব আলী, ফুলবাড়ী থেকেঃ দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিদুৎ সংযোগ লাইনের নকসা জালিয়াতী করে উৎকোচ গ্রহন ও গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক আবু মুসা নিজেই এই অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর অধিনে, জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কতিপয় কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে বিদ্যুৎ সরবারাহের লাইন নির্মানের নকশা জালিয়াতি করেছে বলে, মহাব্যাবস্থাপক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকা পরিচালক আবু মুসা ।

এই ঘটনায় গত সোমবার দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক সন্তোষ কুমার, নকশা সহকারি মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষ) ওবায়দুল আল মাসুমকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এ দিকে গত বুধবার বিকেলে এ ঘটনা জানতে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কার্য্যলয়ে গেলে, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এবং আবাসিক প্রকৌশল (আরই) শাখা একে অপরকে দোষারপ করে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর এলাকা পরিচালক আবু মুছা অভিযোগ করে বলেন, বিরমাপুর উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে তাঁর এলাকা কাটলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য নকশা করা হয়। যার লট নং বিরাম-৬/৭৫। মূল নকশা অনুযায়ী ওয়ান ফেইজ লাইনের পরিমান ছিলো ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটার। গ্রাহক সংখ্যা ছিলো ৮৫ টি। সেখানে নকশা জালিয়াতি করে ওয়ান ফেইজ লাইনকে করা হয়েছে ত্রি ফেইজ। লাইন ২ দশমিক ১০০ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে এককে দুই করে ২০০ কিলোমিটার করা হয়েছে। এছাড়াও জাল নকশায় একটি রাইচ মিলের সংযোগ বাড়িয়ে গ্রাহক সংখ্যা ৮৬ টি করা হয়েছে।

আবু মুছা আরো বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে দালালদের দৌরত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। দালালদের মাধ্যেমে ওয়ান ফেইজ লাইন ত্রি ফেইজ লাইনে রূপান্তর, বানিজ্য, শিল্প সংযোগে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। কাটলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন সংযোগের নকশা জালিয়াতির ঘটনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে গত রোববার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক সন্তোষ কুমার সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে জালিয়াতির ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নকশার কাজটি করে আবাসিক প্রকৌশল (আরই) শাখা। তাঁর এবং সহকারি মহাব্যবস্থাপকের (এজিএম-গ্রাহক সেবা) স্বাক্ষর করার পর নকশাটির জালিয়াতির মাধ্যেমে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই ঘটনায় নকশা পল্লী বিদুৎ সমিতির নকশা সহকারি মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষ) ওবায়দুল আল মাসুমকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত প্রতিদেন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন সংযোগের জন্য অর্থ লেদদেনের লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আবাসিক প্রকৌশলী অভিযুক্ত মো. শামীম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মূল নকশার পর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে ওয়ান ফেইজ লাইনকে ত্রি ফেইজ লাইনে রূপান্তরের নির্দেশনা আসে। তাই সেটিকে ত্রি ফেইজের লাইনে রূপান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন নকশা জালিয়াতি নয়, কিছু সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধনের বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক এবং সহকারি মহাব্যবস্থাক সকলেই অবগত রয়েছেন।

অপর অভিযুক্ত নকশা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, সংশোধিত নকসায়, যে রাইস মিলের সংযোগ অন্তভুক্ত করা হয়েছে, সেই রাইচ মিলের সংযোগের টাকা ২০০৬ সালে পল্লী বিদ্যুৎ জমা নিয়েছে। কিন্তু এতো দিনেও সেই সংযোগ না দিয়ে ওই গ্রাহককে হয়রানী করা হয়েছে। কারা হয়রানি করছে এ বিষয়ে তদন্ত করলে অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবী করেন। নকশা পরিবর্তন সম্পর্কে জিএম অবগত রয়েছেন বলেও দাবী করেন প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম।

এদিকে দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, গ্রাহক হয়রানী ও সঙযোগে উৎকোচ গ্রহন দিনাজপুর পল্লী বিদুৎ সমিতির নিত্যদিনের ঘটনা, টাকা না দিলে ফাইর সরেনা, সংযোগের জন্য টাকা জমা দেয়ার পর কর্মকর্তাদের উৎকোচ না দিলেই ওই সংযোগের কারনে ঘরতে হয় মাসের পর মাস বছরের পর বছর। এর পরেও আছে অসহনিয় লোড শেডিং, এ কারনে গ্রাহকেরা পল্লী বিদুৎ এর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য