কুড়িগ্রামের উলিপুরে সনদে বয়স জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শেষে তালিকায় নাম ওঠা শিক্ষক আবদুল জলিল সরকারের সার্ভিস বুক রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। বয়স জালিয়াতির অভিযোগে গঠিত কমিটি গত ৮ জুন আবদুল জলিল সরকারকে তার সর্টিফিকেটসহ হাজির হতে বললেও তা না করে সময় প্রার্থণা করেছেন। কমিটি তাকে সময় দেয়ায় সার্ভিস বুক হারানোর বিষয়টি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সুত্রে জানায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ মে প্রকাশিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় ৫০ নম্বর ক্রমিকে আবদুল জলিলের নাম রয়েছে। তিনি যে সনদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য আবেদন করেন, সেখানে তার বয়স উল্লেখ আছে ২ মার্চ ১৯৫৮ইং। কিন্তু তার কর্মস্থল উত্তর দড়ি কিশোরপুর কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকের পদে অনলাইনে বেতন নির্ধারনী ফরমে তার বয়স উল্লেখ করেছেন ২ মার্চ ১৯৬০। সে অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন তার বয়স ১০ অধিক। কিন্তু সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যাদের বয়স ১৩ বছর তারাই শুধু মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য দালিলিক প্রমাণসহ আবেদন করতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের ১১ সদস্যের ৯ জন লিখিতি অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাই কমিটি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাজাকার, কম বয়সি ও অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

বয়স যাচাই করার জন্য যাচাই-বাছাই কমিটি মুল সার্টিফিকেট দেখে স্বাক্ষাতকার গ্রহণ করার কথা। কিন্তু তারা আবদুল জলিল সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেছেন। এ বিষয়ে তারা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আবদুল জলিল সরকারের বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্তে কোনো অগ্রগতির কোনো রিপোর্ট না দেন, তাহলে এর জন্য তিনি দায়ি থাকবেন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উলিপুর কমান্ডের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাই কমিটি নিজেরাই বয়স যাচাইয়ের জন্য অনলাইনে আবদুল জলিল সরকারের স্কুলের নাম, জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হবে। কিন্তু তদন্ত কমিটি কিংবা যাচাই-বাছাই কমিটি এ রাস্তায় হাঁটছেন না। অভিযোগ উঠেছে, সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবদুল জলিল সরকারের সময় দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাচন অফিসের সার্ভারে আবদুল জলিলের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ে দেখা যায় তার বয়স ০২/০৩/১৯৬০ ইং।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম তৈফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে অফিস জানায়, তিনি প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। মোবাইলে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অফিস সহকারি হাবিবুর রহমান জানান, গত ৮ জুন আবদুল জলিলকে হাজির থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত না হয়ে ২০ দিনের সময়ের জন্য আবেদন করেন।

তাবে তাকে মৌখিকভাবে তিন কমর্ দিবসের সময় দেওয়া হয়েছিল, সে সময়েও তিনি তার কাগজপত্র দেখাতে পারেন নাই। ইতোমধ্যে তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্রাহাম লিংকন বলেন, যদি কেউ সনদ জালিয়াতি করে থাকেন তাহলে তা হবে একটি ক্রিমিনাল অফেন্স বা ধর্তব্য অপরাধ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য