জম্মু-কাশ্মিরে পরপর গেরিলা হামলা হওয়ায় কাশ্মির উপত্যাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পরে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭টি গেরিলা হামলা হয়েছে। প্রত্যেক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো ওই ধারাবাহিক হামলায় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ৯ জওয়ান এবং ৪ পুলিশসহ ১৩ জন আহত হয়েছে।

উপর্যুপরি ওই সকল হামলার পরে নিরাপত্তা এজেন্সির পক্ষ থেকে গোটা উপত্যাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমস্ত নিরাপত্তা শিবির, পুলিশ থানা, এছাড়া জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে অনন্তনাগ-শ্রীনগর বিভাগে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হামলাকারী গেরিলাদের নির্মূল করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, গেরিলা সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের পক্ষ থেকে ওইসব হামলার দায়ভার গ্রহণ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরে আরো হামলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

এদিন প্রথম হামলা হয় সন্ধ্যা ৬টায়। দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামার ত্রালে গেরিলারা লাডিয়ার গ্রামে সিআরপিএফের ১৮০ ব্যাটেলিয়নের এক কোম্পানি ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা চালালে ৯ জওয়ান আহত হয়। আহতদের শ্রীনগরের ২ বেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দ্বিতীয় হামলা হয় রাত ৮ টায়। গেরিলারা পাডগামপোরাতে সিআরপিএফের ১৩০ ব্যাটেলিয়ানের ক্যাম্পে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তৃতীয় হামলা হয় রাত সাড়ে ৮ টায়। গেরিলারা এ সময় পুলওয়ামা থানায় গ্রেনেড ছুঁড়লে থানার বাইরে দেওয়ালে আঘাত লেগে তা ফেটে যায়। ওই ঘটনায় ২ পুলিশ কর্মী আহত হয়।

চতুর্থ হামলা হয় রাত ৯ টায়। দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগের সারনালে গেরিলারা সিআরপিএফ ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা চালায়। ওই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

পঞ্চম হামলা হয় রাত ৯ টা ১৫ মিনিটে। গেরিলারা দক্ষিণ কাশ্মিরের আঞ্চিডুরাতে জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মুজাফফর হুসেন আত্তাররের বাসায় নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন নিরাপত্তা কর্মীদের ওপরে হামলা চালায়। এসময় দু’জন পুলিশ কর্মী আহত হয়। গেরিলারা পুলিশ কর্মীদের ৪টি রাইফেল লুট করে নিয়ে যায়। ওই সময় সেখানে ৪ পুলিশ কর্মীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও দু’জন ছিলেন না। ওই দু’জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ষষ্ঠ হামলা হয় রাত সাড়ে ৯ টায়। গেরিলারা এসময় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মাধ্যমে পাজলপোরাস্থিত সেনাবাহিনীর ২২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ক্যাম্পে গুলি চালায়। ক্যাম্পের গেটে মোতায়েন রক্ষীরা পাল্টা গুলি চালালে গেরিলারা অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে যায়। উত্তর কাশ্মিরের ডিআইজি নীতিশ কুমার বলেন, গেরিলারা এখানে ইউবিজিএলের মাধ্যমে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে।

সপ্তম হামলা হয় রাত ১০ টায়। ত্রালের লুরগাম এলাকায় সেনাবাহিনীর ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ক্যাম্পে গেরিলারা ইউবিজিএলের মাধ্যমে গ্রেনেড হামলা চালায়। ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গেরিলাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন হওয়ায় এদিন গেরিলারা বড় হামলা চালাতে পারে বলে আগেভাগে খবর পাওয়া গিয়েছিল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে তা ব্যর্থ হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য