সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ম্যারিল্যান্ড ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার দুই অ্যাটর্নি জেনারেল। ওই মামলার অভিযোগে তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসায়ের সঙ্গে ট্রাম্প নিজেকে এখনও জড়িয়ে রেখেছেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন করছেন। এতে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা স্পষ্টত মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন।

মার্কিন বাতা সংস্থা এপি জানায়, ম্যারিল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান ফ্রোশ এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি কার্ল রেসিন গত সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেসময় তারা জানান, ম্যারিল্যান্ডে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট ও বিজনেস হোল্ডিংস সংবিধানের স্বল্প পরিচিত একটি অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করছে। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ও অন্য সরকারি কর্মজীবীরা কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া বিদেশি উপহার এবং অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। ফ্রোশ বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের স্বার্থের দ্বন্দ্ব আমাদের গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলেছে।’

একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ যে সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল ট্রাম্পের দায়িত্বগ্রহণের আগেই।

তবে ট্রাম্প ও তার অ্যাটর্নিদের দাবি, হোটেল রুমের ভাড়া ও রিয়েল এস্টেট বেচা-বিক্রির অর্থের মতো ন্যায্যমূল্যের লেনদেনের বিষয়টি ওই অনুচ্ছেদের আওতামুক্ত। সংবিধান লঙ্ঘন নিয়ে যে এবারই প্রথম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হলো তা নয়। গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথগ্রহণের কয়েক দিন পর ওয়াশিংটনভিত্তিক সরকারি ওয়াচডগ সিটিজেনস ফর রেসপনসিবিলিটি এ- এথিকস নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট একটি ফেডালের মামলা দায়ের করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ হলো সেই পরিস্থিতি, যখন কোনও একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অর্জনে তার অফিশিয়াল ক্ষমতার ব্যবহার হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য