দিনাজপুরের কাহারোলের ১নং ডাবোর ইউপির কাশিপুর গ্রামের ৩ ফসলি জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করে ও প্রশাসনের পূর্বা অনুমতি ছাড়াই ঘনবসতি এলাকায় ফসলি জমিতে জোর পূর্বক ইট-ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইট-ভাটা বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসী পরিবেশের ক্ষতি করে ফসলি জমিতে ইট-ভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিসারের নিকট আবেদন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোচাগঞ্জ উপজেলার বাদশা মিয়া কাহারোল উপজেলার কাশিপুর মৌজায় ৩ ফসলি জমির মাঠে ৬০ বিঘা ফসলি জমিতে ইট-ভাটা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অমান্য করে ও প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে তিনি সেখানে ভাঁটা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছেন। উচ্চ মূল্য টাকা দিয়ে জমির মালিকদের প্রলুদ্ধ করে তিনি ডিড নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন মাদকসেবী যুবকদের টাকা দিয়ে তিনি ভাঁটা নির্মানের পক্ষে কাজ করাচ্ছেন। ভাটার মালিক প্রভাবিত করে ডিডে স্বাক্ষর করার জন্য জমির মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সাথে তারা বর্গচাষীদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। জমির ডিড না দিলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হবে বলে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কাশিপুর মাঠে ইট-ভাটা নির্মাণ করা হলে এই এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিবে। এই এলাকায় কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভাটার কালো ধোয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই সাথে নষ্ট হবে এই এলাকার হাজার হাজার বিঘার জমির ফসল।

এলাকার প্রতিটি জমিতে কমপক্ষে ৩ করে ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এই ফসলি জমিতে ইট-ভাটা হলে তার ক্ষতিকর প্রভাবে সর্বশান্ত হবে এলাকার দিনমুজুর, দরিদ্র কিশোর ও বর্গাচাষীরা। বসতবাড়ি ছেড়ে এলাকা ত্যাগ করতে হবে শতাধিক পরিবারকে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ হবে এলাকার বৈচিত্র্য। বিপন্ন হবে মানুষের স্বাস্থ্য। জমির মালিক অবাইদুর বলেন, আমরা ভাঁটা করতে জমিতে দেব না।

ভাটার মালিক তার নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে জমির মালিকদেরকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। কাহারোল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা শামীম বলেন, কাশিপুরের জমি ৩ ফসলির জমি। এই জমিতে ভাঁটা নির্মাণ হলে ভাটার কালো ধোয়ায় এলাকার জমিতে কোন ফসল হবে না। গাছে আম হবে না। চারপাশে গ্রাম ভাটার কালো ধোয়ায় এই পরিবেশ নষ্ট হবে।

কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কাশিপুর এলাকায় ইট-ভাটা নির্মাণের জন্য কেউ তার কাছ থেকে কোন অনুমতি নেন নি। পরিবেশের ক্ষতি করে জনবসতি এলাকায় ফসলি জমিতে কোন ইট-ভাটা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য