ফুলবাড়ী(দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনে দুপুরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দুই ব্যবসায়ীর সাত লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাই কারীদেরর আঘাতে এক ব্যবসায়ীসহ তিন জন আহত হয়েছে। আহতদের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্ত্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার বেলা ১২ টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে আধাঘন্টা ব্যবধানে, ফুলবাড়ী-বিরামপুর মহাসড়ক ও ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া মহাসড়কে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন চাউল-ভুট্টা আড়তদার উপজেলার পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসলাম উদ্দিন সরকার (৫০), আসলাম উদ্দিনের ব্যবসায়ী সহযোগী পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের মৃত সোবার আলীর ছেলে মকলেছার রহমান (৫৮) ও এসকে টাওয়ারের মালিক ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ (৩৫) এদের মধ্যে ব্যবসায়ী আসলাম উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেনের ম্যানেজার মামুনুর রশিদ, বেলা ১২ টায় বিরামপুর ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যাত্রীবাহী বাস যোগে ফুলবাড়ীতে আসার পথে, ফুলবাড়ী-বিরামপুর মহাসড়কের পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর কার্য্যলয় মোড়ের সন্নিকটে একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাস তার বাসটি থামিয়ে, ম্যানেজার মামুনকে ওয়ারেন্ট আছে বলে বাস থেকে টেনে হিছড়ে নামায়, এর পর তাকে তাদের মাইক্রোবাসে উঠায়। তাকে নিয়ে মাইক্রোবাসটি ফুলবাড়ী পৌর শহরের ঢাকা মোড় হয়ে মধ্যপাড়া সড়ক দিয়ে রংপুরের দিকে রওনা হয়।

এর পর ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া সড়কের মহেশপুর নামক স্থানে মটরসাইকেল আরহী ব্যবসায়ী আসলাম উদ্দিনের মটর সাইকেলটির পথরোধ করে, এবং আসলাম উদ্দিকে মারপিট করে, তাকে চরম আহত করে, তার নিকট থাকা দুই লাখ টাকাসহ তার মটর সাইকেলের পিছনে থাকা ব্যবসায়ী সহযোগী মকলেছার রহমানকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়, এর পর মধ্যপাড়া শাল বাগানের নিকট নির্জন এলাকায়, আসলাম উদ্দিনের সহযোগী মকলেছার রহমান ও সানোয়ার হোসেনের ম্যানেজার মামুনকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দিয়ে, ছিনতাইকারীরা রংপুর শহরের দিকে চলে যায়।

ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন বলেন, তার ম্যানেজার মামুনুর রশিদ, বেলা ১২ টায় বিরামপুর উপজেলা শাখার ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে যাত্রীবাহী বাস যোগে ফুলবাড়ীতে আসতেছিল, ফুলবাড়ী-বিরামপুর মহাসড়কের পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর কার্য্যলয় মোড়ের সন্নিকটে একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাস তার বাসটি থামায়, এবং তার ম্যানেজার মামুনকে ওয়ারেন্ট আছে বলে টেনে হিছড়ে নামায়, এর পর তাকে তাদের মাইক্রোবাসে উঠায়।

মাইক্রোবাসে উঠার পর ম্যানেজার মামুন এর চোখ বেধে রাখে এবং তার সাথে থাকা পাঁচ লাখ টাকা কেড়ে নেয়। এবং তাকে নিয়ে ফুলবাড়ী পৌর শহরের ঢাকা মোড় হয়ে মধ্যপাড়া সড়ক দিয়ে রংপুরের দিকে রওনা হয় আসলাম উদ্দিনেরসহযোগী মকলেছার রহমান বলেন, তারা আসলাম উদ্দিনসহ ভুট্টার টাকা দেয়ার জন্য, মধ্যপাড়া বাজারের ভুট্টা ব্যবসায়ী রিপনের নিকট মটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিল, বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টার সময়, তারা মহেষপুর মোড় পার হয়ে একটি ফাকা মাঠের নিকট গেলে, পিছন দিক থেকে আসা রংপুর গামী একটি সাদা মাইক্রোবাস তাদের পথরোধ করে।

এসময় মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন সাধা পোষাকে নেমে নিজেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাদেরকে মাইক্রোবাসে উঠতে বলে, কিন্তু ব্যবসায়ী আসলাম তাদের মাইক্রোবাসে উঠতে অস্বীকার করলে তারা এলাপাতাড়ী ভাবে আসলাম উদ্দিকে মারপিট শুরু করে, তাদের মারপিটে আসলাম গুরুতর আহত হলে, আসলামের ব্যাগে থাকা নগদ দুই লাখ টাকাসহ তাকে(মকলেছারকে) মাইক্রোবাসে উঠায়, মাইক্রোবাসে উঠে দেখতে পায় সেখানে ব্যবসায়ী সানোয়ারের ম্যানেজার মামুনকেও বেধে রেখেছে। এর পর তাদেরকে মধ্যপাড়া শালবাগনে নির্জন এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দিয়ে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

এবিষয়ে দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের কোন দল বিরামপুর কিংবা মধ্যপাড়া সড়কে ছিল না। তিনি বলেন, এই চক্রটিকে ধরার জন্য পুলিশ প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য গত চার মাস পূর্বে ফুলবাড়ী –বিরামপুর সড়কে র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে ফুলবাড়ীর লাভরী ফুড ইন্ডসট্রিজ এর ম্যানেজার বেলাল হোসেন নিকট টাকা ছিন্তাইয়ের চেষ্ঠা করেছিল, সেই সময় স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়, তার এক বছর পূর্বে ফুলবাড়ী ব্যবসায়ী রুহুল আমিন ও আতাউর রহমান মিলটনের নিকট ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ২৫ লাখ টাকা চিন্তাই করেছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য