আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ চারপাশে দেয়াল ঘেরা প্রাচীরের ভেতর ঢুকলে মন ভালো হয়ে যাবে যে কারোর। বিশাল এলাকা জুড়ে সবুজের সমারোহ; বিভিন্ন প্রজাতির ফল-ফুলের গাছ, পুকুর। এটি গিনি আপার বাগানের দৃশ্য। গিনি আপা মানে মাহাবুব আরা বেগম গিনি। তিনি গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদের একজন হুইপও। তার কাজের ব্যস্ততার অন্ত নেই। নিজ নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করে থাকেন। এছাড়াও একান্ত গৃহকর্ম তো আছেই। ভাবতেই অবাক লাগে-এতো কিছুর পরেও তিনি বাগান করেন, ফল-ফুলের গাছ লাগান, সেগুলোর পরিচর্চাও করেন নিজেই। ঢাকায় যখন যেখানে থাকতেন, তখন সেই বাসার ছাদে ফলের গাছ লাগাতেন তিনি। এনিয়ে তার উপর বিখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের একটি সচিত্র কৃষি প্রতিবেদন চ্যানেল আইয়ে প্রচারিতও হয়েছে।

হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের জোদ্দকরি সিং গ্রামে প্রায় দুই একর জমির উপর গড়ে তুলেছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এবং বিরল প্রজাতির ফল-ফুলের বাগান। এখানে তিনি বাসভবনও নির্মাণ করছেন। তবে প্রথমে বাসভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিলো না। তিনি বিদেশ সফরে গেলে, সেখান থেকে সংগ্রহ করেছেন ফল- ফুলের চারা বা বীজ। বাগানে রয়েছে মিষ্টি ডুমুর, মিষ্টি গাব, গোলাপজাম, সুইটকর্ণ, পীচফল, ড্রাগন ফ্রুট, নাশপাতি, এবাকডো, ব্রেডফ্রুট, সৌদি খেজুর, আলুবোখরা, প্যাশন ফ্রুট, মাপেল, বিভিন্ন প্রজাতির পেয়ারা, জামরুল ও আম, কিউরি ফল, আঙুর, পাহাড়ি কলা, আমলকি, কাঠ বাদাম, বকফুল, গ্যাটফ্রুট, থাইল্যান্ডের পদ্মফুল, দেশি-বিদেশি, শাপলা, জাপানের পার্সিমন, অস্ট্রেলিয়ার ব্লুবেরী, বিদেশি কাকরোল ইত্যাদি। এছাড়া দেশি কলা, আমড়া, শশা, আউ, কুমড়া, ঢেড়শ, ভেন্ডি তো রয়েছেই। পশু পাখির মধ্যে রয়েছে তিতির পাখি, টারকি মোরগ ও ভেড়া। ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রজাতির গাভী ও ছাগল পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

মাহাবুব আরা বেগম গিনি যখনই বিদেশ সফরে গেছেন, তখন সেদেশের ফলের বীজ বা চারা নিয়ে এসেছেন তার প্রিয় জায়গা গাইবান্ধায়। তবে ফুল-ফলের গাছ সংগ্রহ করা শেষ হয়নি তার । এখনও তিনি নেটে ফল-ফুলের খোঁজ নিয়ে কোন সহকর্মী বা ঘনিষ্ঠ কেউ বিদেশে গেলে তিনি তাকে দিয়ে চারা বা বীজ নিয়ে আসেন। হাজারো কর্মব্যস্ত একজন জনপ্রতিনিধির এ ধরণের উদ্যোগ মানুষ তাক লাগিয়ে দিবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য