সুবল রায়, বিরল থেকেঃ দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর সড়ক (দিনাজপুর-বিরল-পাকুড়া-রাধীকাপুর) প্রশস্তকরণ কাজ চলছে নিম্নমানের। প্রাইমকোর্ট ছ্ড়াাই চলছে কার্পেটিং ও সিলকোট।

স্থানীয় জনগন নিম্নমান কাজের প্রতিবাদ করায় উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন বলে জাহির করছে মেসার্স ধ্রুব কন্সট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোজেক্ট ম্যানেজার কাজী হেলাল। এলাকাবাসি জানতে চায় ! সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের খুঁটির জোড় কোথায় ?

দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ কার্যলয় সুত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-বিরল-পাকুড়া-রাধিকাপুর (বিরল স্থলবন্দর) সড়ক নির্মাণ কাজে ১১ কিলোমিটার থেকে ১৫ কিলোটিার কাজটি সওজের তত্বাবোধানে মেসার্স ধ্রুব কন্সট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে।

ওই এলাকায় নিম্নমানের কাজ চলায় রামপুর বাজারের পশ্চিম পার্শে সড়ক থেকে প্রায় ৩ ফুট নীচু একটি কালভার্ট নির্মান করে। সড়ক থেকে কালভার্ট নির্মান করায় এলাকাবাসির চোখে ধরা পড়ে। সওজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি এলাকাবাসি অবগত করায় ধামাচাপা দিতে কালভার্টের উপর পাথর-বালু ফেলে সড়কের সমান করার চেষ্টা করে সওজ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। পাথর-বালুর ঢালাই কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকাবাসি।

এছাড়াও ওই সড়কে নিম্নমানের বিটুমিনাস দিয়ে প্রাইমকোট ছাড়াই কার্পেটিং ও সিলকোড কাজ চলছে। ৪০ মিলিমিটার কার্পেটিং ও ১২ মিলিমিটার সিলকোড করার নিয়ম থাকলেও মোটের (কার্পেটিং ও সিলকোট) উপর ৩৫ থেকে ৪৫ মিলিমিটার করা হচ্ছে বলে সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে নীচের কার্পেটিং এর বড় পাথর সড়কের অনেক জায়গায় বেরিয়ে গেছে। বিটুমিনাসের সাথে হালকা কেরোসিন মিশিয়ে সড়ক ভেজানোর কয়েকদিন পড়ে তার ওপরে কার্পেটিং ও সিলকোট করার নিয়ম। কিন্তু তা করছে না সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসি প্রতিরোধ গড়ে তোলার ফলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী (এসও) মোমিনুল হক ও মেসার্স ধ্রুব কন্সট্রাকশনের প্রোজেক্ট ম্যানেজার কাজী হেলাল এলাকাবাসির বিরুদ্ধে আশ্রয় নিতে বিরল থানার পুলিশের স্মরনাপন্ন হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসহ অনলাইনে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে পড়ে।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,বি,এম, রওশন কবীর সরজমিনে ওই প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গেলে উপস্থিত এলাকাবাসি অভিযোগের বিষয়গুলি তুলে ধরে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

সওজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও এলাকাবাসীর দাবী শুনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কালভার্ট নীচু হওয়ার কারণ ও কারিগরী বিষয়ে প্রকৌশলীদের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত ওই সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা এবং উপস্থিত এলাকাবাসীকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সহযোগিতার আহ্বান জানান। ইউএনও এ. বি. এম রওশন কবীরের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সওজ কর্তপক্ষ ও মেসার্স ধ্রুব কন্সট্রাকশনের প্রোজেক্ট ম্যানেজার কাজী হেলাল পরের দিন বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত পুলিশ দিয়ে ঠিকাদারের কাজ শুরু করেন বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।

বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকাবাসি নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য