মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাও থেকেঃ নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না করায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা আসার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে দূর্ভোগে পরেছে ঠাকুরগাঁও পৌরবাসি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন বরাদ্দের অভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আর শুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন সরকারের বিপক্ষ দল পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় বরাদ্দ পাচ্ছে না। বুধবার বিকেল ৫টা থেকে প্রায় ২ঘন্টা ঠাকুরগাঁওয়ে মুশলধারে বৃষ্টি হয়।

টানা বৃষ্টির কারনে জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র শহরের চৌরাস্তা, নরেশ চৌহান সড়ক, হলপাড়াপাড়া, জজকোর্ট, হাসপাতালসহ বিভিন্ন মহল্লার সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে চরম দূর্ভোগে পরে স্থানীয় এলাকাবাসি ও পথচারিরা। বৃষ্টির পর বিভিন্ন জায়গার জমে থাকা পানি সরু ড্রেন দিয়ে নিস্কাশন হওয়ার সময় শহরের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে নোংরা ও ময়লাযুক্ত পানি প্রবেশের ফলে ভোগান্তি আরো চরমে উঠে। অনেকে হাটু জলের মধ্যদিয়ে যাতায়াতে পরে বিম্বনায়।

এসময় যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হয় শিশু ও বয়বৃদ্ধরা। পৌর শহরের ইসলামবাগ এলাকার নাজিম উদ্দিন, নরেশ চৌহান সড়কের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর উজ্জল, মানিক ও আসরাফ আলীসহ অনেকে জানান, পৌর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। বর্ষার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে যদি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় তাহলে বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি হলে আমাদের কি অবস্থা হবে আমরা ভাবতে পারছি না। দ্রুত পৌর শহরের সরু ড্রেনগুলো যদি সংস্কার না করা হয় তাহলে আমাদের ভোগান্তির অন্ত থাকবে না।

এছাড়া সদর হাসপাতাল, জজকোট চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ন জায়গা। আর এসব জায়গাতেও বৃষ্টি হলেই হাটু জলে পরিনত হয়। এতে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পরতে হয় রোগীদের নিয়ে। এ বিষয়ে শুশীল সমাজের প্রতিনিধি গোবিন্দ ঘোষ, এ্যাডভোকেট টুলু জানান, পৌরসভার মুল ব্যবস্থাপনার মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা হচ্ছে অন্যতম। কিন্তু শহরের বেশিরভাগ ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। আমরা মনে করছি সরকারি দলের প্রতিনিধি পৌর মেয়র না হওয়া মুল কারন। এজন্য উন্নয়ন হচ্ছে না।

তবে আমরা সরকারের কাছে দাবি করছি বিরোধী দলের প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও জনগণের কল্যানের জন্য কাজ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পৌর মেয়র ফয়সাল আমিন এর সাথে ০১৭২০৮০২৪৩২ এই নম্বারে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন জানান ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়মুলক কাজের জন্য ১০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে এটি পাশ হলেই বর্ষার আগেই এ অবস্থা থেকে উত্তোলনের সম্ভব হবে। আমরা আশা করছি দ্রুত প্রকল্পটি পাশ হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য