আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর সর্বত্র পাওয়া যায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এর সংখ্যা। ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক যুবকের।বুড়িমারী স্থলবন্দর।

যেখানে ভারত-ভূটান ও বাংলাদেশ ত্রীদেশীয় বানিজ্য চালু রয়েছে।সেখান থেকে উপজেলা সদর পাটগ্রামের দুরত্ব ১২ কিলোমিটার। ব্যবসায়ীক ও ভ্রমনগত সহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কারণে লোকজনের ব্যাপক হারে যাতায়াত রয়েছে ট্রেন,অটোরিক্সা,ভটভটি,নছিমন,করিমন ও রিক্সা ভ্যান যোগে চলাচল করে এখানকার মানুষ।

এদিকে কমসময়ে যাতায়াতের জন্য কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে ভাড়ায়চালিত মটর সাইকেল।একদল বেকার যুবক ভাড়ায়চালিত মোটর সাইকেলে তাদের বেকারত্ব ঘুচিয়েছে।সুযোগ হয়েছে কর্মসংস্থানের।তাছাড়াও মানুষ গন্তব্যে যেতে পারছে অল্প সময়ে।ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলের যাত্রী মোবারক হোসেন,সাকলায়েন কবির,অনুপম জানালেন,অনেক সময় খুব জরুরী কাজ পড়ে যায়।

তখন আমাদের ভরসা এই যানবাহন।কারন অন্যান্য পরিবহন অল্প যাত্রী নিয়ে ছাড়তে চায়না।আবার রিক্সায় গেলে অনেকটা সময় লেগে যায়।সেই হিসেবে কম খরচে মটর সাইকেলে দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারছি।যানজট থাকলেও বিকল্প সড়কে চলাচলের সুবিধা রয়েছে।বিধায় যাত্রীদের দিনে দিনে কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে এ পরিবহন সেবাটি।

এ ব্যাপারে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চালক শিপন মিয়া,শাহাআলম,শাহিনুর ইসলাম বলেন,যেহেতু আমরা কোন চাকুরি পাইনি। তাই এক থেকে দেড় লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে মটর সাইকেলের মাধ্যমে যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছি।এতে যাত্রীদেরও উপকার হচ্ছে আর আমাদেরও আয় হচ্ছে।জানা যায়,বুড়িমারী বাজারে তাদের নির্দিস্ট স্ট্যান্ড রয়েছে।সেখান থেকে প্রতিদিন সকাল সাতটা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত তারা যাত্রী আনা নেওয়া করেন।এতে তেল খরচ বাদে দিন শেষে তাদের ৫ থেকে ৬শ টাকা আয় হয়। দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে দুই শতাধিক মটর সাইকেলে বেকার যুবকেরা এ সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে।

তাই উপজেলার সকল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ে মোটরসাইকেল চালক সমিতি তৈরি প্রক্রিয়া চলছে। আমরা প্রত্যেকেই এ পেশায় এসে পরিবারের আশা-ভরশার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাড়িঁয়েছি। উপজেলার সচেতন মহলেরা জানান, এ এলাকার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের অনেকেই কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন আবার অনেকে পরিবারের অশান্তির কারণ ছিলেন। তারা এ পেশায় যুক্ত হয়ে সুন্দর ভাবে সংসার চলছে। সংসারে শান্তি ফিরে এসেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য