ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নতুন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর নবগঠিত রাজনৈতিক দল রিপাবলিক অন দ্য মুভ পার্টি (এলআরইএম) ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট শুরু হবে, বেশিরভাগ শহরেই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে, তবে প্যারিস ও বড় বড় শহরগুলোতে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে।

প্রথমদফার ভোটে সরাসরি জিততে হলে একজন প্রার্থীকে একটি সংসদীয় আসনের মোট ভোটের অর্ধেকের বেশি ভোট পেতে হবে; সেসব ভোটের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের এক চতুর্থাংশের ভোটও থাকতে হবে। এ কারণে প্রথমদফার ভোটে খুব কমসংখ্যক প্রার্থীই সরাসরি জিততে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি সংসদীয় আসনের কোনো প্রার্থী যদি প্রথমদফার ভোটে ৫০ শতাংশ জনসমর্থন না পায়, তখন সেখানে দ্বিতীয় দফা ভোট হবে। ১৮ জুন দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিজয়ীদের নিয়ে পার্লামেন্ট গঠিত হবে।

সংসদের নিম্নকক্ষের ৫৭৭টি আসনের জন্য ফ্রান্সজুড়ে সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৮৮২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে নবগঠিত এলআরইএম-র পক্ষেই জনরায় আসতে যাচ্ছে। বেশিরভাগ আসনেই মাক্রোঁর দলের প্রার্থীরা রোববার এবং পরে ১৮ জুনের রান-অফ ভোটে বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্যারিসের উত্তরাংশে নিজের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সময় মাক্রোঁ সরকারের জুনিয়র মন্ত্রী মুনির মাহজাবি বলেন, “পরবর্তী পাঁচ বছর কাজ করতে এবং ফ্রান্সজুড়ে সংস্কার করতে আমাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।”

নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রতিশ্রুত সংস্কার করতে পারবে বলে দাবি করেছে মাক্রোঁর দল।

৩৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাংকার মাক্রোঁ গত মাসে ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হন।

সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাক্রোঁর মধ্যপন্থি এলআরইএম পার্টি এবং তাদের মধ্য-ডানপন্থি শরিক দল মডেম রোববারের ভোটে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পাবে।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টরপন্থি রিপাবলিকান পার্টি ও তাদের শরিকরা ২০ শতাংশের মতো ভোট পেতে পারে এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল ফ্রন্ট ১৭ শতাংশের মতো ভোট পেতে পারে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটে এলআরইএম ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বিরোধী দলগুলোও বলছে, এলআরইএম সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে তাদের ধারণা।

জাতীয় নির্বাচনের শুরুতে ভালো অবস্থানে থাকা মেরি লো পেনের ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি তাদের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ফল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদে পার্লামেন্টারি গ্রুপ করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসনও তারা পাবে না, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য