ঈদকে সামনে রেখে এবার পার্বতীপুর শহর ও ১০ ইউনিয়নের হাট বাজারগুলোতে ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা শুরু হয়েছে রোযা শুরুর পরে,ঠিক দু’দিন বাদে। আর এখন শহরের তৈরী পোষাক, বস্ত্র বিতান ও জুতার দোকানগুলোতে উপচেপরা ভিড় চলছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১২ টা পর্যন্ত এ দৃশ্য চলে। কেনা বেচার এ ধারা অব্যাহত থাকলে অতীতের সব রেকর্ড এবার অতিক্রম করবে বলে ব্যবসা সংশ্ল্ষ্টিরা মনে করছেন।

পার্বতীপুর শহরের নতুন বাজারের শহীদ মিনারসংলগ্ন তৈরী পোষাকের দোকান ‘মমতা গার্মেন্ট’ এর মালিক মিনার হোসেন বাবু (৩৮) । দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি মালয়শিয়া ছিলেন। সেখানে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেছেন ৬ বছর। বাবু বলেন, এবার রোযা শুরু হওয়ার কমপক্ষে ৭দিন আগে নতুন আইটেম এনেছেন। এরপর রোযা শুরু হওয়ার ৩ দিন পরে আরেক চালান মাল (কাপড়) এনেছেন। কেনাবেচার ধরন দেখে মনে হচ্ছে আরও দুই চালানে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মাল আনতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্রেতা মোছাঃ সায়রা খাতুন বলেন, তার স্বামী চাকুরি করেন চট্রগ্রামে। বেতনের সব টাকা তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে মেয়ে আর দেবর ননদ নিয়ে তার সংসার। স্বামী পাঠানো টাকায় ওদের জন্য সব কেনা কাটা করতে পারলেও শ্বশুর শ্বাশুড়ি আর তার নিজের জন্য কেনাকাটার প্রয়োজনে ইতিমধ্যে ১০মন ধান বিক্রি করতে হয়েছে।

উপজেলার ৬নং মমিনপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মোঃ বোরহান উদ্দিন (৫৮) বলেন, আমার জন্ম স্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। স্বাধীনতার অনেক আগে মা, বাবার সাথে এখানে চলে এসেছি। আমার জ্ঞান হওয়ার পর এবারের মতো ঈদ কেন্দ্রিক কেনাবেচা অতীতে আর দেখিনি। তিনি আরও জানান, প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে, তবে মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বেড়েছে অনেক।

২নং মন্মথপুর ইউনিয়নের ভবের বাজার এলাকার কৃষক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, এ অঞ্চলে বোরো ধানের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পেয়েছি আমরা। তাছাড়া গ্রাম ও হাট বাজারগুলোতে এখন ভালো ভালো দোকানপাট গড়ে উঠেছে। চাহিদামতো সব কিছু পাওয়া যায় সব দোকানে। তবে বড় মেয়ের পছন্দ বাহুবলী-২, তার জন্য শহরে যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পার্বতীপুর শহরের জেমস্ টেইলার্স এর মালিক মোঃ নূর হোসেন বলেন, তার দোকানে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা থাকলে ২০ রোযা পর্যন্ত অর্ডার নিতে পারতেন বলে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য