কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে জনদূর্ভোগ চরমে উঠেছে। রমজানেও বিদ্যুতের সু-খবর মিলছে না। পহেলা রমজান থেকে শুরু করে ইফতারি-তারাবি ও সেহরিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন এসব দেখার কেউ নেই।

ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে স্কুল,কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোজাদারদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার কম্পিউটার ও ফোটোকপি ব্যবসায়ী বিপ্লব মিয়া জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং বেশি হওয়ায় দিন দিন ব্যবসায় কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ছে। মাওলানা আব্দুল আজিজ বলেন,বিদ্যুৎ নির্ভর ডিজিটাল যুগে চিলমারীবাসীকে দিনে বেশীরভাগ সময় থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন, ফলে এখানকার উন্নয়ন কর্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক পাখা, বাল্ব, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলা সদর থানাহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর বিদ্যুত চলে যাওয়ায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও তারাবির নামাজে বাড়তি ভাড়া দিয়ে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে,এতেও স্বস্থি মিলছেনা।

একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেনারেটরের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ফ্যান (পাখা) ব্যবহার করা যায় না। শুধুমাত্র স্বল্প আলো দিয়ে কোনরকমে বেচা-কেনা চলছে। সব মিলিয়ে অত্র উপজেলা জুড়ে বিদ্যুতের হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

এব্যাপারে পল্লি বিদ্যুৎ চিলমারী সাব-স্টেশন ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ১ নং সার্কিটের আওতায় কুড়িগ্রাম,উলিপুর ও চিলমারী সাব-স্টেশনের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সেখানে লালমনিরহাট থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় ৭/৮ মেগাওয়াট। শুধু মাত্র চিলমারীর জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে সাড়ে ৪ মেগাওয়াট অথচ বরাদ্দ আসে দেড়-দুই মেগাওয়াট। এক সঙ্গে সব ক’টি ফিডার চালু করা সম্ভব হয় না। তাই যা বরাদ্দ পাচ্ছি, ভাগ ভাগ করে বিতরণ করার চেষ্টা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য