নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের দাবীতে পুলিশ প্রেমিকের বাড়ীতে অনশন করেছে কলেজ পড়–য়া ছাত্রী প্রেমিকা। শুক্রবার সন্ধ্যায় ডিমলা থানার পুলিশ প্রেমিকা সুবর্না রানী রায় (১৮) নিয়ে আসে। সে ডিমলা সদর ইউনিয়নের ডিমলা হাইস্কুল পাড়া গ্রামের রমেশ চন্দ্র রায়ের কন্যা ও ডিমলা সরকারী মহিলা কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

সুবর্না রানী সাথে ডিমলা সদরের পন্ডিতপাড়া গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র রায়ের পুত্র নারায়ন চন্দ্র রায় (২০) এর দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। নারায়ন চন্দ্র বর্তমানে পুলিশ কষ্টোবল পদে গাজীপুর জেলায় চাকুরী করছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুবর্নাকে নিয়ে নারায়ন চন্দ্র বাড়ী আসলে পরিবারের লোকজন সুকৌশলে সুবর্নাকে আটক করে নারায়নকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। নারায়ন বাড়ী থেকে বের হয়ে গেলে শুক্রবার সকালে সুবর্নাকে বাড়ীর উঠানে শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে নারায়নের পরিবারের লোকজন। এবং এক পর্যায় সুবর্নাকে টেনে হেচরে বাড়ী হতে বের করে দেয়।

শারিরীক নির্য়াতনের শিকার হয়ে অসুস্থ্য সুবর্না বাড়ীর বাহিরে বিয়ের দাবীতে অনশন করতে থাকে। পরে কৌশলে নারায়নের পিতা রঞ্জিত ডিমলা থানা পুলিশের সহযোগীতায় রাতে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে নারায়নকে সড়িয়ে দিয়ে সুবর্নার সাথে দুরব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে অমানবিকভাবে শারিরীক নির্যাতন করা হয়েছে। সুবর্নার দাবী করেন, নারায়ন প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমাকে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছে। আমি তাকে বিয়ে করতে না পারলে আত্বহত্যা করব।

একাধিকবার চেষ্টা করেও নারায়ন চন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। ডিমলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকার বলেন,মিথ্যে প্রলোভন দিয়ে সুবর্নার সর্বনাশকারী পুলিশ কনেষ্টবল নারায়নের বিচার হওয়া উচিৎ। এবং সুবর্নাকে শারিরীক নির্য়াতনকারীদের আইনের আওতায় এন দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। ডিমলা থানার এসআই সজল কুমার সরকার বলেন, নারায়নের পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে সুবর্নানে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। পরিবারের লোকজন অসুস্থ্য সুবর্নাকে থানা হতে নিয়ে যাওয়ার অসম্মতি জানালে। শনিবার দুপুর পয্যন্ত সুবর্না থানা হেফাজতেই রয়েছে। তবে সুবর্নাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য